হুগলী-চুঁচূড়া পুরসভায় দুর্নীতি বনাম উন্নয়নের লড়াইতে ভোট চাইতে দুয়ারে যাচ্ছেন বাম ও তৃণমূল নেতারা

আমাদের ভারত, হুগলি, ১৯ ফেব্রুয়ারি: পুরভোটের ঢাকে কাঠি পড়লেই পুরসভা দখলের উদ্যেশ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বাম, বিজেপি ও তৃণমূল। হুগলী- চুঁচূড়া পুরসভায় মোট ৩০ টা ওয়ার্ড। ২০১৫ সালে হুগলী- চুঁচূড়া পুরসভায় ২৫টা আসন পেয়েছিল তৃণমূল। কংগ্রেস পেয়েছিল একটা। বামেরা পেয়েছিল চারটি ওয়ার্ড। পরে অবশ্য কংগ্রেসের জয়ী প্রার্থী তৃণমূলে যোগ দেন। সেই হিসেবে তৃণমূলের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২৬।

২২ সালের পুর নির্বাচনে এবার তৃণমূলের নতুন মুখ ৯। তার মধ্যে পুরুষ তিনজন। বাকি ছয়জন মহিলা। সংরক্ষিত হয়ে যাবার কারণে একজন কাউন্সিলর টিকিট পাননি। সেখানে তার স্ত্রী তৃণমূলের টিকিট পেয়েছেন। চলতি পুরভোটে হুগলী- চুঁচূড়ায় তৃণমূলের নির্দল কাঁটা নেই।

লোকসভা ভোটের নিরিখে হুগলী- চুঁচূড়া পুরসভায় ১৭টা ওয়ার্ডে তৃণমূল এগিয়ে ছিল। ১৩টা ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে ছিল। বিধানসভা ভোটের নিরিখে সেই চিত্র পালটে যায়। ৩০ টা ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯ টা ওয়ার্ডেই এগিয়ে যায় তৃণমূল। মাত্র একটি ওয়ার্ডে এগিয়ে বিজেপি।

কেন এবার পুরভোটে মানুষ তৃণমূলকে ভোট দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে হুগলী- চুঁচূড়া পুরসভার বিদায়ী পুরপ্রধান তথা ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী গৌরীকান্ত মুখ্যপাধ্যায় বলেন, হুগলী- চুঁচূড়া পুরসভা জুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিগ বাজেটের একাধিক প্রকল্পে কাজ হয়েছে। সেগুলি হল, ভাগার এলাকায় রাজ্য সরকারের দফতর সুডারের মাধ্যেমের বর্জ অপসারণ ও প্রক্রিয়াকরণের বৃহৎ প্রকল্পের কাজ চলছে পুরসভার নিজস্ব জমিতে।

“রৌদ্রবৃষ্টি” ভবন নির্মাণ। উদ্যেশ্য, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের স্থায়ী ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা। একই সঙ্গে তাদের হাতের তৈরি কাজের বিপণন কেন্দ্র এই আউটলেটে কাউন্টার থাকবে। এতে ১০৮৩ টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা উপকৃত হবেন।

ভবঘুরেদের জন্যে রাজ্য সরকারের দফতর সুডারের মাধ্যেমের আবাস প্রকল্পের নির্মাণ শুরু হয়েছে চুঁচূড়া হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় পুরসভার নিজস্ব জমিতে। পাশাপাশি শহর জুড়ে নর্দমার দূষিত জলকে পরিশুদ্ধ করে গঙ্গার জলে নিক্ষেপ করার জন্যে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে। একই সঙ্গে শহরজুড়ে আট কিলোমিটার দৈর্ঘের ডলাই রাস্তা নির্মাণের জন্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি শহর জুড়ে ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘের ছোট, মাঝারি ও বড় পাকা ড্রেন নির্মাণের ডিপিআর প্রস্তুত হচ্ছে। এই সকল কারণেই উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে এবার পুর এলাকার মানুষ ৩০ টা ওয়ার্ডেই তৃণমূলকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন।

হুগলী- চুঁচূড়া পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাম প্রার্থী সমীর মজুমদার বলেন, তৃণমূলকে মানুষ ভোট দেবে না। কারণ, এই কয়েক বছরে তৃণমূল হুগলী- চুঁচূড়া পুরসভায় একাধিক দুর্নীতি করেছে। তারমধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত চরম দুর্নীতি করেছে। পুরসভায় একাধিক ভুয়ো কর্মী রয়েছে। যারা মাসের শেষে সই করে টাকা তুলে নেয়। যাদের কেউ চেনেও না।

পুরসভায় লাগাম ছাড়া পৌরকর। যথেচ্ছ মিউটেশন ফি। ট্রেড লাইসেন্স আগে এক বছরের নেওয়া হতো। বর্তমান তৃণমূল বোর্ড তিন বছরের টাকা একবারে নিয়ে নিচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে কোনও ব্যাবসায়ী কয়েকমাস ব্যাবসা করে পরে ব্যবসা ছেড়ে দিলে তারা টাকা ফেরত পাচ্ছে না। এখানেও দুর্নীতি হচ্ছে। পুরসভার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে জলাজমি ভরাট ও পুকুর ভরাট নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি রয়েছে।

আমরা ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি মুক্ত পুরসভা মানুষকে উপহার দেব। পুরসভার সমস্ত রকম ফর্ম বীনা মূল্যে মানুষকে দেব।

এই প্রসঙ্গে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী নির্মল চক্রবর্তী বলেন, সিপিএম কয়েক দশক পুরসভার ক্ষমতার দখল নিয়ে রেখেছিল। তাদের আমলে কোনও উন্নয়ন হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের পাশাপাশি হুগলী- চুঁচূড়া পুরসভায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। সেটা শহরের মানুষ জানেন। সুতরাং মানুষ ভোট তৃণমূলকেই দেবে। সিপিএম ও বিজেপিকে মানুষ ভোট দেবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *