পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩ এপ্রিল: সাতসকালে খড়্গপুরে প্রাতঃভ্রমণ সেরে চা চক্রে যোগ দিয়ে ফের একবার রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয় বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিন তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, রাজ্যে কার্যত আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। তাঁর অভিযোগ, “রাজ্য জুড়ে রাষ্ট্রবিরোধীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি, এই সরকারকে বরখাস্ত করা উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়নি।” কালিয়াচকে বিচারকদের হেনস্তা ও গাড়ি ভাঙ্গচুরের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যেখানে বিচারকরাই সুরক্ষিত নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ভগবানের ভরসায়। হাইকোর্টের বিচারকদের এজলাসে ঢুকে চিৎকার, ঘেরাও এমনকি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মার খাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। আজ সুপ্রিম কোর্ট ও ইলেকশন কমিশনকেও বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।”
তাঁর দাবি, কালিয়াচকের ঘটনা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “তৃণমূল এখন ভয় পাচ্ছে। ভবানীপুরেও আতঙ্কে রয়েছে। যারা ১৫ বছর ক্ষমতায়, তাদের কিসের এত ভয়?” বিভিন্ন জেলার দাগি নেতাদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যারা মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা তোলে, পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়, তাদের আবার কিসের নিরাপত্তা? এই সব লোকেদের সাধারণ মানুষের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত।”

শনিবার নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বরাবরের মতো এবারও রাম মন্দির থেকে শোভাযাত্রা করে তিনি মনোনয়ন জমা দিতে যাবেন। এই কর্মসূচিতে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাকেশ গুপ্তা-সহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের একাধিক নেতা উপস্থিত থাকতে পারেন। পরিশেষে হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন ও আদালত যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে বাংলায় ভোট হওয়া মুশকিল। আমরাও মাঠে লড়াই করতে জানি। দেখা হবে, লড়াই কোথায় হয়।”

