স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১২ ফেব্রুয়ারি: নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে প্রতিবন্ধী অধিকার ২০১৬ কেন্দ্রীয় আইন এই রাজ্যে কার্যকরী করার দাবিতে নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে শুক্রবার আইন অমান্য কর্মসূচি সংগঠিত হয়। প্রায় ১০ হাজার প্রতিবন্ধী মানুষের জমায়েতে বিরাট মিছিল সদর হাসপাতাল মোড় থেকে শুরু হয়ে ডিএম অফিসের দিকে রওনা হলে কলেজ গেটের সামনে পুলিশের প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে সামনের দিকে এগিয়ে যায় তারা। চার্চ গেটের সামনে পুলিশের দ্বিতীয় ব্যারিকেড ও সশস্ত্র পুলিশের সঙ্গে প্রতিবন্ধীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। দাবি আদায়ে নাছোড়বান্দা প্রতিবন্ধীরা লড়াই চালিয়ে যেতে থাকে। অবশেষে সকলেই রাস্তার উপর বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

বিক্ষোভ চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সম্মিলনীর রাজ্য কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অমর্ত্য লোক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রতিবন্ধীদের চাহিদা সামান্য। প্রতিবন্ধী কল্যাণে যে আইন ২০১৬ লাগু হয়েছে, তা এ রাজ্যের ক্ষেত্রে কাগুজে আইনে পরিণত হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন স্তরে বারংবার ডেপুটেশন দেওয়া হলেও এখনো তা কার্যকরী হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই এই আইন অমান্য কর্মসূচি করতে হল। সরকার যখন তখন মেলা খেলা করে টাকার ধ্বংস করছে, ক্লাবগুলোকে বেহাল করবার জন্য টাকা বিলি বণ্টন করছে, ইমাম ভাতা পুরোহিত ভাতা সবকিছুই হচ্ছে অথচ প্রতিবন্ধীরা তাদের শংসাপত্র পাচ্ছে না। হাসপাতালগুলোতে গেলে সুপাররা বলে থাকেন পরিকাঠামো নেই। ২১ ধরনের প্রতিবন্ধকতা যুক্ত ব্যক্তিদের সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা থাকলেও সবাইকে দেওয়া হয় না অযথা হয়রানি করা হয়। হাসপাতালগুলোতে দালালচক্র চলছে। প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে বেশিদিন চলতে পারে না। আজকের আইন অমান্য করে যদি আইন কার্যকারী না হয় তাহলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি করা হবে। আজকের মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা সভাপতি বিকাশ মল্লিক। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অন্যতম নেতৃত্ব মশিয়ার মন্ডল, লালি চ্যাটার্জি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভাপতি বিশেষ করে উল্লেখ করেন, গৃহহীন প্রতিবন্ধীদের বিয়ের ব্যবস্থা করতেই হবে এদের নাম না আছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় না আছে আবাস প্লাস তালিকায়। সংরক্ষিত প্রতিবন্ধী আসনে চাকরি থেকে শুরু করে সমস্ত বিষয় প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের সুযোগ দিতে হবে, প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা চিকিৎসা এবং চাকরির দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। সমস্ত ক্ষেত্রেই দালাল চক্র চলছে প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা বঞ্চিত হচ্ছে। বঞ্চনার কান্না তারা আর সইতে পারছে না। তাই আজ স্বাধীনতার ৭৪ বছর পরেও প্রতিবন্ধীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ অবস্থান এবং আইন অমান্য কর্মসূচি পালন করছে।

