সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩০ এপ্রিল: সারা দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত হৈচৈ শুরু করলেও, মন কি বাত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলকে আক্রমণ করলেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী তথা তৃণমূলের রাজ্য মহিলা সংগঠনের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
আজ বাঁকুড়ার মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের গঙ্গাজলঘাঁটি থানার দুর্লভপুর মোড়ে এক পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি ১০০ তম মন কি বাত করে কার কথা শুনছেন। আপনাকে বাংলার মানুষের কথা শুনতে হবে। দেশের কোষাগারে যে অর্থ রাজস্ব হিসেবে জমা পড়ছে তা যেমন আপনার পৈতৃক সম্পত্তি নয়, তেমনি তা রাজ্যেরও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। কিন্তু সেই অর্থ আপনি রাজ্য থেকে তুলে নিয়ে যাবেন, আর রাজ্যের প্রাপ্য টাকা দেবেন না, তা হতে পারে না। তাই আমাদের ১০০ দিনের টাকা ফেরত দিন, আবাস যোজনার টাকা ফেরত দিন। তা না হলে ২০২৪ সালে আপনাকে ফেরত পাঠিয়ে দেবেন বাংলা তথা ভারতবর্ষের মানুষ।

তিনি পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে বলেন, এটা পুরোপুরি পরিকল্পনা করে করা হয়েছিল। এটা আমরা বলছি না। বলছেন সত্যপাল মালিক। তিনি যখন এই প্রশ্ন তুলেছেন তখন আপনি তাকে চুপ রহো বলে ধমকি দিয়েছেন। তিনি তাতেও না থেমে সত্য উদ্ঘাটন করতে চাইলে তার বাড়িতে সিবিআই পাঠিয়ে দিলেন। তার মানে আপনি যখন বলেছিলেন ম্যাঁয় চৌকিদার হুঁ, তখনই এর পিছনে অন্য রহস্য লুকিয়ে ছিল। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বীরভূম সফরে এসে বলেছেন বাংলা থেকে ৩৫ টি আসন চাই। এনিয়ে তিনি বলেন, মামার বাড়ির আবদার। ২১- এ তো বলেছিলেন ইস বার ২০০ পার। তো পগারপার তো হয়ে গেছেন। নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীর আইনসভায় থাকার অধিকার নেই বলে তিনি কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, এখানে একজন ফুলটুস বাবু আছেন। তিনি বলেছেন মমতা নাকি অমিত শাহকে ফোন করেছিলেন। যেমনি মমতা বললেন প্রমাণ করতে পারলে পদত্যাগ করবেন, অমনি ফুলটুস বাবুর বেলুন চুপসে গেল।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাঁকুড়ায় সব আসন পেতে হবে বলে সভায় উপস্থিত মহিলাদের চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা মহিলার অর্ধেক আকাশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৩ শতাংশ মহিলার আসন সংরক্ষণ দিয়েছেন। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে তা ৫০ শতাংশ করা হবে।
মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের প্রশ্নে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। দল কি এবার অনুব্রতের থেকে দূরত্ব তৈরি করছে। জবাবে তিনি বলেন, আপনারা কি ফিতে দিয়ে মাপতে গিয়েছিলেন। অনুব্রত ও সুকন্যার ৪০০ কাঠা জমির দলিল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিচারাধীন বিষয় বলে এড়িয়ে যান। এদিন ইসলামপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার প্রতিবাদে সেখানকার বিধায়ক করিম চৌধুরীর বিদ্রোহ নিয়ে প্রশ্নের জবাবও তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে গেলেন।
এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা নেত্রী মৌ সেনগুপ্ত, পুরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেন মজুমদার, শিল্পাঞ্চলের মহিলা নেত্রী জেলা পরিষদের সদস্য টিঙ্কু মন্ডল, ব্লক সভাপতি নিমাই মাজি, সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু, জেলা আইনটিটিউসির সভাপতি রথীন ব্যানার্জি প্রমুখ।

