পুরভোটে আইনশৃঙ্খলা! কমিশনের সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখতে বার্তা রাজ্যপালের

বিশেষ প্রতিনিধি, আমাদের ভারত, ৭ ডিসেম্বর: পুরভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজ্যের বাহিনীই যথেষ্ঠ। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এই বার্তা পাওয়ার পরেই রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর মঙ্গলবার রাতে সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখতে বার্তা দিলেন কমিশনকে।

রাজ্যপাল টুইটারে লিখেছেন, পুর নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে কমিশনের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রধান বিচার্য। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের জন্য নির্ধারিত কমিশনের বিরোধিতা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুভ সূচনায় বাধা তৈরি করছে। সমস্যাটি এতটা গুরুতর যে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। কমিশনের জরুরী প্রতিক্রিয়া আশা করব।

এই টুইটের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে রাজ্যপাল কমিশনকে লেখা তাঁর চিঠি এবং কমিশনের আজকের সংশ্লিষ্ট জবাব যুক্ত করেছেন। এদিনই বিকেলে বিজেপি-র প্রতিনিধিদল কমিশনের দফতরে গিয়ে লিখিতভাবে পুরভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে এসেছে।

রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের এক আধিকারিক মঙ্গলবার জানান, শান্তিতে ভোট করাতে বদ্ধপরিকর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অবাধ পুরনির্বাচনের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেখানে অশান্তির কোনও সম্ভাবনা রুখতে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়েই ঝাঁপাবে প্রশাসন। কমিশনও কোনও ত্রুটি রাখতে চায় না।“

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে এর বিরোধিতা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “বিধানসভা ভোটের পরে ২৫ হাজার হিংসার ঘটনা ঘটেছে। কলকাতাতেও ৫০০-র বেশি এফআইআর আছে। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে বিজেপি কর্মীরা। প্রচুর দলীয় কর্মী খুন হয়েছেন।“

নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ভোটে নিরাপত্তার বিষয়টি খোঁজখবর করেছে রাজ্য পুলিশ। পুলিশ-প্রশাসন থেকে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন নেই। তাই কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশের হাতেই রাখতে চাইছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কলকাতার যুগ্ম-কমিশনারের (সদর) সঙ্গে বৈঠকে বসে বিশদ কথা বলেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাস। তার ভিত্তিতেই কমিশনের কাছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত খুটিনাটি তথ্য সমন্বিত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

পুরভোটে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করা হবে প্রশাসনের তরফে সেই ব্লু প্রিন্ট আজই জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। জানা গিয়েছে, রিপোর্টে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে মোট ৩২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশ থাকবে ২৭ হাজার এবং রাজ্য পুলিশ থাকবে ৫ হাজার।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপি এবং রাজ্যপালের আপত্তির জল কোন দিকে গড়ায়, তা দেখার অপেক্ষায় ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *