অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১০ অক্টোবর: উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যের তিন তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। সামলেছেন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন লোকসভার সাংসদ। এহেন সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি। তাঁকে ‘নেতাজী’ বলে প্রচার মাধ্যমে সম্বোধনে কড়া প্রতিবাদ উঠল সামাজিক মাধ্যমে।
একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক তথা নেতাজী-গবেষক ডঃ জয়ন্ত চৌধুরী বড় হরফে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “কিছু হিন্দি মিডিয়া ও তার পার্টি মুলায়ম সিংকে ‘নেতা-জি’ বলে কান্নাকাটি করছে! ইতিহাসে একজনই নেতাজি। মুলায়মজি ১০ হাজারের মধ্যে ৯০০-র বেশি। আইএনএ ফাইল প্রথম প্রকাশ করেছিলেন।”
প্রতিক্রিয়ায় কৃষ্ণেন্দু বাছার লিখেছেন, “হিন্দি বলয়ে সব নেতাকে নেতা জি বলে মোটামুটি। ওদের জি কথার অর্থ হয় বাবু। সেক্ষেত্রে মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু বাংলা মিডিয়া বললে তা ক্ষমার অযোগ্য।”
সোমনাথ সিনহা লিখেছেন, “এটা সেই ‘৮৮ সালের পর থেকে আমি শুনে আসছি। শুধু মুলায়ম নয়, দেখা যাচ্ছে হিন্দি-বলয়ের প্রায় সব ছোট-মাঝারি-বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সকলকেই এইভাবে ডাকে বা বলে বা লেখে- এটা ওদের কাছে খুবই চলতি সাধারণ ব্যাপার- যা আমাদের মানে শুধু বাংলার ক্ষেত্রে কিছুটা অস্বস্তি বা অসহ্যের। হিন্দি-বলয়ের অভ্যাস কোনও নামের শেষে বা সম্বোধনে ‘জি’ বা ‘জী’ কথাটা ব্যবহার করা বা জুড়ে দেওয়া। তাই এক্ষেত্রে কিছু করলেও কিছু হবে না বলেই মনে হয়।”
ডঃ জয়ন্ত চৌধুরী লিখেছেন, “ইন্দিরা জি মোদীজি, যোগী জি, মুলায়েমজি ঠিক আছে কিন্তু তাই বলে…..।”
অনলাইন সংবাদপত্রেও প্রকাশিত হয়েছে নেতাজি কথাটি। এ প্রসঙ্গে অনেকেই প্রতিবাদ করেছেন সামাজিক মাধ্যমে। সাহানা বসু লিখেছেন, “এর আগেও একটা হিন্দি সিনেমায় এক দুশ্চরিত্র, অত্যাচারী, ঘুষখোর মন্ত্রীকে সবাই নেতাজি নেতাজি বলে জয়ধ্বনি দিচ্ছিল। সেখানে অমিতাভ বচ্চন নায়ক ছিল। জয়াপ্রদা নায়িকা। কলেজ জীবনে দূরদর্শনে ওই সিনেমাটা দেখে আমার রাগে গা জ্বলছিল। সিনেমার নামটা মনে পড়ছে না। কোনো দিন কারো মুখে কোনো প্রতিবাদ শুনিনি নেতাজির নাম নিয়ে বলিউডে নষ্টামি করার জন্য।“ সম্রাট রায় লিখেছেন, “বাংলার মিডিয়া হয়ে চাটতে চাটতে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে তারা ভুলে যাচ্ছে সমগ্র
ভারতবর্ষ তথা সমগ্র বিশ্বে এক জনই নেতাজি ছিলেন, জেলখাটা চোরেদের নেতাজি বানানোর চাটুকারিতা বন্ধ করুন।”
অয়ন রায় লিখেছেন, “কীসের নেতাজি? নেতাজি একটাই। আর নেতাজি হলেন সুভাষচন্দ্র বসু। সঞ্জয় রজক লিখেছেন, “আপনাদের নেতাজি মুলা…. হতে পারে, আমার নেতাজী সুভাসচন্দ্র স্যার।“ মলয় মাজি লিখেছেন, “নেতাজি একজনই।” নিত্যানন্দ ধর লিখেছেন, “নেতাজি একজনই …….! আর সেটা সবাই জানে। আর ইনি হলেন ১ নম্বর পাল্টিবাজ সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতা।”
রোমিত ঘোষ লিখেছেন, “ইউপির কিছু অশিক্ষিত জনতা আর চটি মিডিয়ার ক্লাস একই – বলছে দ্বিতীয় নেতাজি!” সৌরভ লিখেছেন, “লজ্জা লাগছে না?“ কাকে কার সাথে তুলনা করছেন?” নেতাজি একজনই ছিলেন! দ্বিতীয় কেউ তাঁর নখের যোগ্য নয়।“
প্রসঙ্গত, ১৭ লাখের গাড়িতে চড়তেন প্রয়াত এই নেতা। ২০১৯-র লোকসভা ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বীতার সময় নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হলফনামায় যে সম্পত্তির খতিয়ান দিয়েছিলেন মুলায়ম, তা রীতিমতো চমকে ওঠার মতো। ওই হলফনামা অনুযায়ী স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর রয়েছে ১৬ কোটি ৫২ লাখ ৪৪ হাজার ৩০০ টাকার সম্পত্তি। কীভাবে এত টাকার সম্পত্তির মালিক হলেন মুলায়ম, তারও বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছিলেন হলফনামায়। প্রসঙ্গত, ২০১১-য় তাঁর এই সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১১ কোটি টাকা। আট বছরের মধ্যে মুলায়মের সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছিল চার কোটি টাকা।

