আমাদের ভারত, ৬ ফেব্রুয়ারি: পঞ্চভূতে বিলীন হলো দেবী সরস্বতীর বর কন্যা সুর-সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের নশ্বর দেহ। শনিবার শিবাজী পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় শিল্পীর। আর তার সাথেই অবসান হলো ভারতীয় সংস্কৃতি জগতের একাধিক যুগের।
হ্যাঁ লতা মঙ্গেশকরের চলে যাওয়া এক যুগের অবসান নয় বরং কয়েকটা যুগের অবসান। ভারতীয় লঘুসঙ্গীতের বিরাট একটা প্রাসাদ ভেঙে পড়ে গেল। সন্ধে সাড়ে ছটা নাগাদ সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তার প্রয়াণের সংবাদ শুনেই তড়িঘড়ি মুম্বাই পৌঁছান প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী। সুর সম্রাজ্ঞীকে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, শাহরুখ খান, শচীন তেন্ডুলকার, জাভেদ আখতার, শঙ্কর মহাদেবের মতো শিল্প ও রাজনৈতিক জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের। লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন আশা ভোঁসলে।
রবিবার সকালে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সংগীতজগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র লতামঙ্গেশকার। করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও হঠাৎই শনিবার আচমকা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। দেশবাসী তার আরোগ্য কামনা প্রার্থনা করছিল। কিন্তু সকলকে কাঁদিয়ে রবিবার না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন কোকিলকন্ঠী।
প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী নিজের শোকবার্তায় বলেন,” হরেক রকমের অনুভূতি গান গেয়ে আমাদের সমৃদ্ধ করেছিলেন লতা মঙ্গেসকার। কয়েক যুগ ধরে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ধারা পরিবর্তনের সাক্ষী ছিলেন। চলচ্চিত্রে এবং গানের জগত ছাড়াও ভারতের উন্নতির জন্য সর্বদা ভাবনাচিন্তা ছিল তার। মজবুত ও উন্নততর দেশ দেখতে চেয়েছেন তিনি।”

বেলা বারোটা নাগাদ হাসপাতাল থেকে লতা মঙ্গেশকরের মরদেহ তার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনটে পর্যন্ত তার দেহ সেখানেই শায়িত ছিল। তারপর সেখান থেকে তার দেহ নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে। লতা মঙ্গেশকরের জীবনাবসানে আগামী দুদিন রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হবে। কেন্দ্র সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা। সোমবার পশ্চিমবঙ্গে অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

