পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৫ ফেব্রুয়ারি: সিভিক ভলান্টিয়ার তুলসী রাও ওরফে উদয় খুনে সর্বশেষ অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করল খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় মহারাষ্ট্রের থানে থেকে অভিযুক্ত মহম্মদ জাভেদ (২৬)-কে পাকড়াও করে টাউন থানার টিম। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে ৪ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে খড়্গপুর নিয়ে আসা হয়।
এর আগেই এই খুনের মমলায় বাকি পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ। তারা জেল হেফাজতে আছে বলে জানিয়েছেন খড়্গপুরের এসডিপিও ধীরজ ঠাকুর। সেইসঙ্গে জাভেদকে শুক্রবার খড়্গপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর ভোর রাতে খড়্গপুর স্টেশন সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে চা খেতে গিয়ে একদল উন্মত্ত যুবকের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে প্রহৃত হয়েছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের অধীন খড়্গপুর টাউন থানায় কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়ার তুলসী রাও ওরফে উদয়। গত ২৭ ডিসেম্বর ওড়িশার কটকের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় উদয়ের। ঘটনা ঘিরে উত্তাল হয় রেল শহর খড়্গপুর। টাউন থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ঘটনায় মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে খড়্গপুর টাউন থানায় এফআইআর দায়ের হয়।
১৬ ডিসেম্বর পুলিশ গ্রেপ্তার করে মূল অভিযুক্ত শেখ শারফুদ্দিন এবং রাহুল শ্রীবাস্তবকে। পরে একে একে গ্রেপ্তার করা হয় রৌশন সাহু, রোহন শঙ্কর এভং সোনু সোনকারকে। আরেক অভিযুক্ত মহম্মদ জাভেদ সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় মহারাষ্ট্রে। তবে, ওঁত পেতে ছিল পুলিশ। জাভেদের বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-পরিজনদের ফোনে আড়ি পাতা শুরু করে পুলিশ। শেষমেশ খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ জানতে পারে, মহারাষ্ট্রের থানে এলাকায় “এল অ্যান্ড টি” সংস্থায় কাজ করা শুরু করেছে জাভেদ। গত প্রায় একমাসের বেশি সময় ধরে সেখানেই ছিল জাভেদ। বুধবার সন্ধ্যায় নিজের কর্মস্থলের সামনেই একটি চা দোকানে চা খাচ্ছিল সে। সেই সময়ই পিছন থেকে গিয়ে সাদা পোশাকের খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ পাকড়াও করে জাভেদকে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গীতাঞ্জলী এক্সপ্রেসে চাপিয়ে তাকে আনা হয় খড়্গপুরে।
এদিন সন্ধ্যা নাগাদ খড়্গপুর টাউন থানায় সাংবাদিক বৈঠক করেন খড়্গপুরের এসডিপিও ধীরজ ঠাকুর, টাউন থানার আইসি পার্থসারথি পাল। এসডিপিও বলেন, ‘এই ঘটনায় সর্বশেষ অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তার করা হলো। মহারাষ্ট্রের থানে থেকে মহম্মদ জাভেদকে গ্রেপ্তার করে ট্রানজিট রিমান্ডে আনা হয়েছে।’ এসআই দীপক নস্করের নেতৃত্বে চার সদস্যের পুলিশকে এই অভিযানে পাঠানো হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।

