সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৫ জুলাই: তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমিহারা কর্মীদের পেনশন প্রকল্পে যুক্ত না করার প্রতিবাদে সোমবার থেকে দু’দিনের ধর্না অবস্থানে বসলেন মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমিহারা কর্মীরা।
প্রকল্পের ২৪০ জন ভূমিহারাকে নতুন পেনশন স্কিমে নিয়োগ হতে বাধ্য করেন ডিভিসি কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ অবস্থানকারীদের। এদিন তারা সকলেই ছুটি নিয়ে প্রকল্পের আবাসন গেটের সামনে ধর্না মঞ্চ করে বিক্ষোভ দেখান। ডিভিসির শ্রমিক সংগঠন গুলির যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত মোর্চার সিটু, আইএনটিইউসি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন এই অবস্থান বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে তারাও সামিল হয়েছেন। সিটু সম্পাদক সুমন গোস্বামী, আইএনটিইউসি’র সম্পাদক অরিন্দম ব্যানার্জি, স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন নেতা রণজিৎ মন্ডল ও বিক্ষোভকারী ল্যান্ড লুজার এমপ্লয়িজ ফোরামের পক্ষে দেবাশিস মুখার্জি বলেন, ডিভিসি মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি নেওয়ার পর ৫২০ জন ভূমিহারাকে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হবে এই মর্মে ১৯৯৩ সালে রাজ্য সরকারের সাথে চুক্তি করে। ১৯৯৮ সালের মধ্যে সকলকে নিয়োগ করা হবে বলেও চুক্তি পত্রে স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারির আগে পর্যন্ত ধাপে ধাপে ২৮০ জনকে নিয়োগ করে। ১৯৯৩ থেকে প্যানেল ভুক্ত হয়ে থাকলেও বাকি ২৪০ জনকে নিয়োগ করে ২০০৫ থেকে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে।

বিক্ষোভকারীদের আহ্বায়ক মৃত্যুঞ্জয় মাজি বলেন, এই ২৪০ জনকে পেনশনের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী। কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফের আরেকটি সার্কুলারে বলা হয় ১ জানুয়ারি ২০০৪ সালের পরে যারা কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় নিয়োগ হয়েছেন তারা পেনশন আওতার সুযোগ পাবেন যদি তারা ওই সময়ের আগে ইন্টারভিউ দিয়ে প্যানেল ভুক্ত হয়ে থাকেন। দেবাশিস মুখার্জি বলেন, আমরা নুতন সার্কুলার অনুযায়ী পুরনো পেনশন প্রকল্পের অধিকারী। ডিভিসি কর্তৃপক্ষও তা মানছেন। কিন্তু তা লাগু করছেন না। ইতিমধ্যে অনেক ভূমিহারা কর্মী অবসর নিয়েছেন। তারা পেনশন না পেয়ে পরিবার নিয়ে অথৈ জলে পড়েছেন। অবসর নেওয়ার ১ বছরের মধ্যে হতাশাগ্রস্ত হয়ে গত সপ্তাহে মাণিক গোস্বামী নামে একজন ভূমিহারা সদস্য হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন।
বিক্ষোভকারী সদানন্দ মাজি বলেন, তিনি সামনের সেপ্টেম্বরে অবসর নেবেন। চাকরি পেয়েছেন ৪৬ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর। এদিকে যে জমির উপর জীবিকা নির্বাহ হত তা ডিভিসি নিয়েছে ১৯৮৬ সালে। চাষের ফসল নেই, এখন আবার পেনশনও পাব না। আমি পরিবার নিয়ে কি করে সংসার চালাব।
সংগঠনের নেতা উত্তম ঘোষ বলেন, ডিভিসি কর্তৃপক্ষ যদি দাবি মেনে নেয় তাহলে ভালো। অন্যথায় কলকাতার সদর দপ্তর ডিভিসি টাওয়ারর্সে পরিবারের ছেলে, বুড়ো, মহিলা সকলকে নিয়ে অনির্দিষ্ট কালের জন্য অনশনে বসতে বাধ্য হব।
সংযুক্ত মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সমীর বাইন বলেন, মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমিহারা কর্মীদের দাবি ন্যায্য। ডিভিসি কর্তৃপক্ষ অনৈতিক ও বেআইনি ভাবে তা আটকে রেখেছে। আমরা যৌথভাবে এর সমর্থনে ডিভিসি সদর দফতরে আবেদন জানিয়েছি।
এবিষয়ে মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ডিজিএম ওম প্রকাশ বলেন, মেজিয়ার ভূমিহারা কর্মীদের পেনশনের ব্যপারে ডিভিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে দেখছেন। যদি কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী হয় তবে তা নিশ্চয়ই হবে।

