মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পেনশন প্রকল্প চালু না হলে পরিবার সহ অনশন ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত ভূমিহারা কর্মীদের

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৯ জুন: ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমিহারা কর্মীদের পেনশন প্রকল্প চালু না করলে ভূমিহারা কর্মীরা পরিবার নিয়ে ধরনা অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিলেন। এরপরও যদি ডিভিসি কর্তৃপক্ষ তা না মানেন তাহলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনশন ধর্মঘটে বসবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে আজ ডিভিসির শ্রমিক সংগঠন গুলির যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত মোর্চার সিটু, আইএনটিইউসি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের শাখার পক্ষে একটি ডেপুটেশন দেওয়া হয়। এই ডেপুটেশনে ডিভিসি ল্যান্ড লুজার এমপ্লয়িজ ফোরামও যুক্ত ছিল। সিটু সম্পাদক সুমন গোস্বামী, আইএনটিইউসি সম্পাদক অরিন্দম ব্যানার্জি, স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন নেতা রণজিৎ মন্ডল ও ল্যান্ড লুজার এমপ্লয়িজ ফোরামের পক্ষে দেবাশিস মুখার্জি বলেন, ডিভিসি মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি নেওয়ার পর ৫২০ জন ভূমিহারাকে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হবে এই মর্মে ১৯৯৩ সালে রাজ্য সরকারের সাথে চুক্তি করে। ১৯৯৮ সালের মধ্যে সকলকে নিয়োগ করা হবে বলেও চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারির আগে পর্যন্ত ধাপে ধাপে ২৮০ জনকে নিয়োগ করে। ১৯৯৩ থেকে প্যানেল ভুক্ত হয়ে থাকলেও বাকি ২৪০ জনকে নিয়োগ করে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে। এই ২৪০ জনকে পেনশনের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা মোতাবেক। কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফের আরেকটি সার্কুলারে বলা হয় ১ জানুয়ারি ২০০৪ সালের পরে যারা কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় নিয়োগ হয়েছেন তারা পেনশন আওতার সুযোগ পাবেন যদি তারা ওই সময়ের আগে ইন্টারভিউ দিয়ে প্যানেল ভুক্ত হয়ে থাকেন।

দেবাশিস মুখার্জি বলেন, আমরা নুতন সার্কুলার অনুযায়ী পুরনো পেনশন প্রকল্পের অধিকারি।ডিভিসি কর্তৃপক্ষ তা মানছেন। কিন্তু তা লাগু করছেন না। ইতিমধ্যে অনেক ভূমিহারা কর্মী অবসর নিয়েছেন। তারা পেনশন না পেয়ে পরিবার নিয়ে অথৈ জলে পড়েছেন।

সদানন্দ মাজি বলেন, তিনি সেপ্টেম্বরে অবসর নেবেন। চাকরি পেয়েছেন ৪৬ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর। এদিকে যে জমির উপর জীবিকা নির্বাহ হত তা ডিভিসি নিয়েছে ১৯৮৬ সালে। চাষের ফসল নেই, এখন আবার পেনশনও পাব না। আমি পরিবার নিয়ে কি করে সংসার চালাব।

সংগঠনের নেতা মৃত্যুঞ্জয় মাজি বলেন, আমরা প্রথমে কর্ম বিরতি দিয়ে আন্দোলন শুরু করব। ডিভিসি কর্তৃপক্ষ যদি দাবি মেনে নেয় তাহলে ভালো। অন্যথায় পরিবারের ছেলে বুড়ো মহিলা সকলকে নিয়ে অনির্দিষ্ট কালের জন্য অনশনে বসতে বাধ্য হব।

সংযুক্ত মোর্চার নেতারা বলেন, মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমিহারা কর্মীদের দাবি ন্যায্য। ডিভিসি কর্তৃপক্ষ অনৈতিক ও বেআইনি ভাবে তা আটকে রেখেছে। আমরা যৌথভাবে এর সমর্থনে ডিভিসি সদর দফতরে আবেদন জানাবো।

এবিষয়ে মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প প্রধান সুধীর কুমার ঝাঁ বলেন, মেজিয়ার ভূমিহারা কর্মীদের পেনশনের ব্যাপারে ডিভিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে দেখছেন।আমি স্মারকলিপিটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *