রাজেন রায়, কলকাতা, ২০ অক্টোবর: বিধানসভা নির্বাচনের সময় দুয়ারে রেশন, লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ডের মতো একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এরমধ্যে দুয়ারে রেশন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে ইতিমধ্যে বেঁকে বসেছেন রেশন ডিলাররা। আর সারা রাজ্য জুড়ে দুয়ারের সরকার ক্যাম্প করার পরেও ব্যাংকের নথি এবং প্রযুক্তিগত সমস্যায় লক্ষ্মীর ভান্ডার এবং স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের বাস্তবায়ন আটকে যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই। আর সেই কারণেই বুধবার নবান্নে কোভিড নিয়ে বিশেষ বৈঠকের সময় এই সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য জেলাশাসকের নির্দেশ দেন মুখ্য সচিব হরি কৃষ্ণ দ্বিবেদী।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সেপ্টেম্বর মাস থেকেই টাকা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। রাজ্যের সমস্ত আবেদনকারী মহিলার এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি অর্থসাহায্য পাওয়ার কথা থাকলেও ব্যাংকের নথির গোলমালে ঢুকছে না অনেকের কাছেই। সমস্ত আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের সমস্যা সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যেই তা করতে হবে।
আরও পড়ুন
প্রসঙ্গ বাংলাদেশ, পরমব্রতকে বয়কটের জোরালো ডাক, প্রত্যক্ষ প্রচার তথাগত রায়ের
আগামী ৩০ অক্টোবর রাজ্যের বাকি চার কেন্দ্রের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নদিয়ার শান্তিপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা, উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ এবং কোচবিহারের দিনহাটা, উপনির্বাচনের কারণে এই চার কেন্দ্রের মানুষ এখনই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না, তা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভোট মিটলে তারা দুই মাসের টাকা একসঙ্গে পাবেন।
স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যাতে বাংলার ছাত্রছাত্রীরা ঋণ পেতে পারেন তার জন্য একাধিক জেলার সমবায় ব্যঙ্কগুলিকে ব্যবহার করার নির্দেশ দিলেন মুখ্য সচিব। জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। সূত্রের খবর, সেখানেই উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়া, বাঁকুড়া-সহ একাধিক জেলার জেলাশাসকদের মুখ্যসচিব বলেছেন, স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড বাস্তবায়িত করতে যেন সমবায় ব্যাঙ্কগুলিকে ব্যবহার করা হয়। এদিনের বৈঠকে আধার লিঙ্ক নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্যসচিব। দ্রুত যাতে তা বাড়ানো যায় তার জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী।
স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা উচ্চশিক্ষার জন্য লোন পাবেন বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগেই জানা গিয়েছিল, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে লোন পেতে সমস্যা হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। জেলায় জেলায় যে সমবায় ব্যাঙ্কগুলি রয়েছে তাদের সবার আর্থিক সংস্থান তেমন নয়। তারা কতটা করতে পারবে সেটা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

