জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১২ এপ্রিল: স্বামীর জয়ই, স্ত্রী’র জয়।’ আর সেই লক্ষ্যে এবার দুর্গাপুর পুর্বের বিজেপি প্রার্থী লক্ষন ঘোড়ুইয়ের প্রচারে আসরে নামলেন স্ত্রী সাগরিকা। সোমবার সকাল থেকে দুর্গাপুর ৪৩ নং ওয়ার্ডে দিনভর রোড’শো, জনসম্পর্ক, কার্যতে চষে বেড়ালেন সস্ত্রীক লক্ষন ঘড়ুই।
দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রে এবারে মুলত ত্রিমুখী লড়াই।
তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন বিশ্বনাথ পাড়িয়াল। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হয়েছেন, দেবেশ চক্রবর্তী। বিজেপি প্রার্থী লক্ষন ঘোড়ুই। গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে আসনটিতে অনেক এগিয়ে বিজেপি। তার পাশাপাশি, রাজ্যজুড়ে গেরুয়া ঝড় উঠছে। লক্ষন ঘোড়ুই বিজেপির সাংগঠনিক আসানসোল জেলার সভাপতি ছিলেন। সভাপতি থাকাকালীন একাধিক কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজর কেড়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর সভাপতিত্বে জেলায় দু-দুটি লোকসভা আসন জিতেছে বিজেপি। তাই তার একটা ইমেজও তৈরী হয়েছে এলাকায়। এবারে নিজে লড়াইয়ের ময়দানে।

প্রার্থী ঘোষনার পর থেকে নিজের এলাকায় কার্যত চষে বেড়াচ্ছেন। চা-চক্র থেকে শুরু করে হিন্দীভাষীদের মনজয় করতে লিট্টি চোখা উৎসবের মাধ্যমে জনসম্পর্ক করেছেন। তাতে ভালো সাড়া পেয়েছেন। সোমবার প্রথম লক্ষন ঘোড়ুইয়ের প্রচারে তাঁর স্ত্রী আসরে নামেন। এদিন লক্ষনবাবু সহধর্মিনী সাগরিকাকে নিয়ে হুড খোলা গাড়িতে রোড-শো করেন দুর্গাপুর পুরসভার ৪৩ নং ওয়ার্ডে। আবার কখনও দুয়ারে দুয়ারে প্রচার করেন। সাংসারে কাজ সামলে স্বামীর রাজনৈতিক প্রচারে সাগরিকাদেবীকে দেখে দলীয় কর্মী সমর্থকরা উৎসাহিত।
সাগরিকাদেবী বলেন, “সাংসারের কাজ নিত্যদিনের। এখনও আরও দায়িত্ব বেড়েছে। সকাল সকাল পচ্ছন্দের জলখাবার, দুপুরের খাবার তৈরী। ভ্যাপসা গরমে অসুস্থ যাতে না হয়, তার জন্য কম মশলা দিয়ে রান্না করি।” প্রচারে নামার ব্যাপারে বলেন, “সরাসরি রাজনৈতিক প্রচারে এভাবে আসা, এটা বাড়তি পাওনা। মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে আপ্লাুত। আমি নিশ্চিত ৫০ হাজারেরও বেশী ভোটে জিতবেন।”

তবে লক্ষন ঘোড়ুই বলেন,” উন্নয়ন হবে। বিকাশ হবে। বেকারত্ব দুর হবে। শিল্পায়ন হবে। বহু মানুষের আশা আকাঙখা আর আশীর্বাদ মাথায় রয়েছে। তৃণমূলের অপশাসন আর অত্যাচারে মানুষের দমবন্ধ হয়ে আসছে। আর তাই সেই দমবন্ধ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। দু হাত তুলে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। মানুষের এই উৎসাহ, উদ্দীপনা, উচ্ছাসই বলে দিচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে গেরুয়া ঝড় উঠেছে। ২ মে তৃণমূলকে সাফ করে দেবে ওই ঝড়।”

