আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১৯ জুন: বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে রাস্তার পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারার অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে হল সৌমেন দাস নামে লেক থানার সাব-ইন্সপেক্টরকে।
কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, এক যুবককে টানতে টানতে প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিয়ে গেলো একটি পুলিশ স্টিকার লাগানো গাড়ি। প্রাণে বাঁচতে বনেটের উপরেই কোনোমতে কিছুক্ষণ আটকেছিল ওই যুবক এবং পুরো ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করে ওই যুবক। এমনই ঘটনার সাক্ষী রইলো শুক্রবার রাতে সোদপুর ট্রাফিক মোড় এলাকার মানুষ।
খড়দহের বাসিন্দা এমবিএ’র ছাত্র রবি সিংয়ের অভিযোগ রাট ১০ টা নাগাদ সোদপুরে বিটি রোডের ওপর একটি রেস্তোরার বাইরে তিনি তার গাড়িটি পার্কিং করে খাবার অর্ডার দেন। এরই মধ্যে একটি পুলিশ স্টিকার লাগানো গাড়ি এসে রবি সিংয়ের গাড়ির পিছনে ধাক্কা মারে। এরপর ওই যুবক ওই পুলিশ স্টিকার লাগানো গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করলে গাড়িটির চালক না থামিয়ে আরো গতি বাড়িয়ে তার পায়ে ধাক্কা মেরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর ওই যুবক গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে গাড়ির বনেটের ওপরে উঠে যায়, গাড়ি না থামিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আরো জোরে গাড়ি চালিয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা নিয়ে যায়। তারপর গাড়ি থামিয়ে রবি সিংকে ব্যাপক মারধর করে পালিয়ে যায়।
অভিযোককারী যুবকের দাবি, তিনি যখন বনেটের ওপর বসে গাড়ি করে যাচ্ছিলেন সেই সময় রাস্তার লোক ও ট্রাফিক পুলিশের কাছে চিৎকার করে সাহায্য চান তিনি। অবশ্য পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে ওই যুবককে সোদপুর থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন রবি সিং। অভিযোগের ভিত্তিতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে খড়দহ থানার পুলিশ। এরপর আজ ঘটনার তদন্ত করতে নেমে ওই অভিযুক্ত সাব ইন্সপেক্টরকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আটক করে খড়দা থানায় নিয়ে আসা হয়। অবশেষে অভিযুক্ত
লেক থানার সাব-ইন্সপেক্টর সৌমেন দাসকে গ্রেফতার করে খড়দহ থানার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ৩২৩, ৪৪১, ৩০৭, ৪২৭, ৫০৬ এই পাঁচটি ধারায় মামলা রুজু করে।
অভিযুক্তকে আজ ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে এক দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

