আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২১ ফেব্রুয়ারি : বিরোধীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে বোমা রেখে আসছে তৃণমূল বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ সেই বোমা উদ্ধার করতে গেলে বিক্ষোভ সামিল হন গ্রামবাসীদের একাংশ। এনিয়ে গ্রামে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বাধ্য হয়ে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার না করেই বোমা উদ্ধার করে ফিরে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের মাড়গ্রাম থানার তপন গ্রামে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার ভোরে পুলিশকে জানিয়ে চার-পাঁচ জন তৃণমূল কর্মী বোমা রেখে গিয়েছিল। তারপরই পুলিশ পৌঁছে যায় বোমার কাছে। শুধুমাত্র সিপিএম কর্মীদের ফাঁসাতেই পরিকল্পিত ভাবে পুলিশ ও তৃণমূল এসব করছে। গ্রাম সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সময় গ্রামে তৃণমূল সংগঠন করতেন ইয়াকুব শেখ। মাসচারেক আগে তিনি তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমে যোগদান করেন। এনিয়ে গ্রাম্য বিবাদ শুরু হয়। দিন দুয়েক আগে ইয়াকুবের ছেলে পুকুরে স্নান করতে গেলে এক তৃণমূল কর্মীর ছেলের সঙ্গে বচসা হয়। এরপরেই ইয়াকুবের ছেলেকে থানায় ডেকে নিয়ে গিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে পুলিশ অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে।
মঙ্গলবার ভোরের দিকে ইয়াকুবের বাড়ির পিছন থেকে বালতি ভর্তি বোমা উদ্ধার করে। ইয়াকুবের স্ত্রী রুবিনা বিবির অভিযোগ স্বামীকে ফাঁসাতে পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে ওই বোম রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভোরের দিকে কুকুর চিৎকার শুরু করে। উঠে দেখি তৃণমূলের সবীর, আলিব, চিন্টু, সিরাজরা বাড়ির পিছনে বালতিতে কিছু রেখে যায়। তার কিছুক্ষণের মধ্যে ওই জায়গায় পৌঁছে যায় মাড়গ্রাম থানার পুলিশ। শুধুমাত্র আমাদের ফাঁসাতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল এসব করছে। তা না হলে পুলিশ ওই জায়গায় কিভাবে পৌঁছল?”
পুলিশ ও তৃণমূল কর্মীদের চক্রান্তের অভিযোগ তুলে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ। তাদের দাবি, যারা বোমা রেখে গিয়েছে তাদের গ্রেফতার করতে হবে। এরপরেই পুলিশ বোমা উদ্ধার করে গ্রাম ছাড়ে।

ইয়াকুবের ভাই মহম্মদ ইসরাফিল হক বলেন, “আমার দাদা গ্রামে জনপ্রিয়। দাদা তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমে যোগ দেওয়ায় দুর্বল হয়েছে তৃণমূলের সংগঠন। তাই পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দাদাকে ফাঁসানোর চেষ্টা।”
গ্রামের বাসিন্দা তৃণমূলের কালুহা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য মহম্মদ সিরাজ উদ্দিন বলেন, “আগে গ্রামে কোনও অশান্তি ছিল না। ইয়াকুব সিপিএমে যোগ দেওয়ার পর থেকে গ্রামে বোমা, বারুদের আমদানি হতে শুরু করেছে। আমরা চাই পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”

