রেল রোকো ও রাস্তা অবরোধ তুলে রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ কুড়মিদের

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৯ এপ্রিল: কুস্তাউর ও কোটশিলা স্টেশনে রেল রোকো ও রাস্তা অবরোধ তুলে রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ জানালেন কুড়মিরা। চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদিবাসী কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিত প্রসাদ মাহাতো বলেন, “তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের আচরণ আমরা দেখলাম। আগামী দিনেও আমরা দেখিয়ে দেব। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বর ফের চারটি জেলায় বড় আন্দোলন করব।”

আজ কুস্তাউর থেকে অবরোধ তুলে কোটশিলায় একইভাবে আন্দোলন শুরু করেছিল আদিবাসী কুড়মি সমাজ। রাঁচি ডিভিশনের অন্তর্গত কোটশিলা স্টেশনে অবরোধ করেন কুড়মিরা। একই সঙ্গে পুরুলিয়া রাঁচি রাজ্য সড়কও অবরুদ্ধ করেন তাঁরা। এর ফলে ওই শাখায় রেল পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। রাঁচি- পুরুলিয়া রাস্তায় চলেনি যান বাহন। সকাল ১০টা থেকে নতুন করে এই অবরোধ স্থলে কয়েকশো কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষ।

আদিবাসী কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিত প্রসাদ মাহাতো বলেন, “নতুন করে অবরোধ কর্মসূচি নয় কুস্তাউর স্টেশন থেকেই কোটশিলায় পথ অবরোধ ও রেল রোকোর কথা ঘোষণা করেছিলাম আমরা। আমাদের দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য এখানে কর্মসূচি চলবে।” কিন্তু রাত সাড়ে সাতটায় অবরোধ উঠে যায়।

এদিকে কুস্তাউরে ৫ দিনের মাথায় বেলা ১১টা নাগাদ প্রত্যাহার হয় অবরোধ। গত দু’দিন ধরে আন্দোলনকারীদের উপর নানারকমভাবে চাপ তৈরি করছিল প্রশাসন। রবিবার সকালের বৈঠকেও প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছিল, অবরোধ প্রত্যাহার না করলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সেই বৈঠকে যদিও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কুড়মিরা। তারপর জেলাশাসকের একটি চিঠি অবরোধ স্থলে নিয়ে যান অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ), পুলিশের আধিকারিকরা। ওই চিঠিতে সোমবার মুখ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়। সেই চিঠি ফিরিয়ে দেন কুড়মি নেতা অজিত প্রসাদ মাহাতো। তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মত বদল করেন তাঁরা। তুলে নেওয়া হয় আন্দোলন।

এর অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, উৎসবের মরশুমে লাগাতার ট্রেন-জাতীয় সড়ক অবরোধ করে ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিলেন আন্দোলকারীরা। তাই সমাধান সূত্র অধরা থাকলেও কুস্তাউর স্টেশনে রেল রোকো ও রাস্তা অবরোধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আদিবাসী কুড়মি সমাজ। সারনা ধর্মের স্বীকৃতি ও তফসিলি উপজাতিভুক্ত হওয়ার দাবিতে গত পাঁচদিন ধরে পুরুলিয়া, খড়্গপুরের খেমাশুলি স্টেশনে অবরোধ চালাচ্ছিলেন কুড়মিরা। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল জাতীয় সড়কও। রাজ্যের তরফে যে সিআরআই রিপোর্ট কেন্দ্রকে পাঠিয়েছিল তার উপর কমেন্ট-জাস্টিফিকেশন পছন্দ হয়নি কুড়মিদের। বরং তাঁদের একাংশ দাবি করেছিল, কুড়মিরা ভৌগোলিকভাবে জনবিচ্ছিন্ন। তারা মূলস্রোতে মিশতে ভয় পায়। এই বিষয়টি রিপোর্টে লিখতে হবে। কিন্তু বাংলার পরিস্থিতি মোটেও এরকম নয় বলে দাবি প্রশাসনের। ফলে গত কয়েকদিন ধরে দফায়-দফায় বৈঠক করেও সমাধান সূত্র বের হয়নি। রাজ্য জানিয়েছিল, চলতি মাসের ১০ তারিখ কলকাতায় মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক হবে আন্দোলনকারীদের। কিন্তু সেই প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেয় আদিবাসী কুড়মি সমাজ।

কুড়মি সমাজের নেতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, “প্রশাসন আমাদের ভীষণভাবে চাপ দিচ্ছিল। প্রশাসন বলেছিল, আগামী ১০ এপ্রিল সোমবার কলকাতায় মুখ্যসচিব তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। অবরোধস্থলে সেই চিঠি নিয়ে এসেছিল। কিন্তু আমরা সেই চিঠি ফিরিয়ে দিয়েছি। আদিবাসী তালিকাভুক্ত করার দাবি নিয়ে আমাদের আন্দোলন চলবেই।” এদিকে এদিনই আদ্রা চান্ডিল শাখায় রেল চলাচল শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *