শতবর্ষে গৌরবময় পথচলা, প্রতাপ চন্দ্র মেমোরিয়াল হোমিওপ্যাথিক কলেজের ঐতিহ্য ও Homeopathic College, Kolkata, অবদানকে সম্মান জানালো কলকাতা

আমাদের ভারত, কলকাতা, ৩০ মার্চ: এক শতাব্দীর ইতিহাস, চিকিৎসা শিক্ষার ধারাবাহিকতা এবং হোমিওপ্যাথির বিস্তারে অনন্য ভূমিকার সাক্ষী হয়ে রইল প্রতাপ চন্দ্র মেমোরিয়াল হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল ও কলেজের শতবর্ষ উদ্‌যাপন। কলকাতার জোড়াসাঁকোর রথীন্দ্র মঞ্চে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে মিলিত হন প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র- ছাত্রী, চিকিৎসক ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই কলেজ বাংলায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি সুলভ ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে হোমিওপ্যাথিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একসময় বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে নানা সংশয় থাকলেও, এই কলেজের শিক্ষক ও চিকিৎসকরা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের আস্থা গড়ে তুলেছেন। এই শতবর্ষ উদ্‌যাপনে উপস্থিত ছিলেন দেশের একাধিক বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সেন্ট্রাল কাউন্সিল অফ হোমিওপ্যাথির প্রাক্তিন সভাপতি ডঃ রামজি সিং, প্রাক্তন রেজিস্টার অসীশ দত্ত, ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ সায়েন্স ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ ভাবতোষ বিশ্বাস, হোমাইয়ের প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল, ডঃ এস. আই. হুসেন,ন্যাশানাল ইন্সটিটিউট অফ হোমিওপ্যাথির প্রাক্তন ডিরেক্টর, ডঃ অভিজিৎ চট্টার্জি ও ডঃ সুভাষ সিংহ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও পি.সি.এম. এইচ অ্যান্ড সি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডঃ বি. পি. দাস এবং একই সংগঠনের সম্পাদক ডঃ সাহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রাক্তনীরা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান শুধু ডাক্তার তৈরি করে না, মানুষের সেবায় নিবেদিত একজন চিকিৎসক হয়ে ওঠার শিক্ষা দেয়।” শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রবীণ চিকিৎসকদের সম্মান জানানো হয় এবং তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরা হয় নতুন প্রজন্মের সামনে।

আয়োজকদের বক্তব্য, এই শতবর্ষ কেবল অতীতের গৌরবের স্মারক নয়, ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন দিশা। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হোমিওপ্যাথিকে আরও গবেষণাভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চায় এই প্রতিষ্ঠান।
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী জোড়াসাঁকো প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান যেন একসঙ্গে মিলিয়ে দিল অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ একটি প্রতিষ্ঠান, একটি দর্শন এবং মানুষের সেবার অঙ্গীকারকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *