তপন কান্দু খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

আমাদের ভারত, ৪ এপ্রিল:ঝালদায় তপন কান্দু হত্যা মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দুর আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত বিচারপতি রাজশেখর মান্থার। বিচারপতি বলেন অভিযোগকারী এবং মানুষের মনে আস্থা ফেরানোর জন্যেই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করবে সিবিআই। এই একই কথা বগটুই কান্ডের তদন্ত ভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার সময়ও বলেছিল আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে বড় জয় বলে উল্লেখ করেছেন কংগ্রেস নেতার নেপাল মাহাতো।

আদালত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ৪৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে আইসি সঞ্জীব ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছেন ও কারোর নির্দেশে কাজ করেছেন। মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার আগেই আইসিকে ক্লিনচিট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তের পর্যায় রাজ্য পুলিশের তরফে অস্বচ্ছতা বা গাফিলতির রয়েছে বলে। অভিযোগ জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনা ফটোগ্রাফি হয়নি এবং ধৃত কলেবর সিং কে ট্রানজিট রিমান্ডে আনা হয়নি। সন্দেহের তালিকায় থাকা আইসি সঞ্জীব ঘোষকে হেফাজতে নেওয়া হয়নি।‌সে এখনও কর্মরত। সঞ্জীব ঘোষের ফোন বাজেয়াপ্ত হয়নি।

ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর পরিবারের আইনজীবীর দাবি রবিবার জেলা পুলিশ সুপার আইসিকে ক্লিনচিট দিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডকে পারিবারিক বিবাদ বলেছেন। আসল ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এই পুলিশ সুপারকেই কয়লা পাচার মামলায় ইডি ডেকে পাঠিয়েছিল। আজ সিটকে এই ঘটনার সমস্ত নথি সিবিআইকে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

প্রসঙ্গত ১৩ মার্চ বিকেল চারটে নাগাদ ঝালদার গোকুল নগরে খুন হন তপন কান্দু। ঘটনায় এর আগে কংগ্রেসের কাউন্সিলরের ভাইপোর দীপক কান্দু এবং দাদার নরেন কান্দুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সিবিআই তদন্তের নির্দেশ শোনার পরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক খুন বলেই রাজনৈতিক দলের নেতারা বাড়িতে আসেনি। সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হয়েছে। এবার ঝালদার আইসি ধরা পড়বে। খুনের পর থেকেই পূর্ণিমা অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন মূল ষড়যন্ত্রকারী আইসি সঞ্জীব ঘোষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *