আমাদের ভারত, ১১ অক্টোবর: পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল বার বার দাবি করে, কলকাতা দেশের অন্যতম নিরাপদ শহর। কিন্তু সেই দাবিকে ধূলিসাৎ হতে দেখা গেল উৎসব মুখর মরশুমেই। কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শহরের খিদিরপুর মোমিনপুর, একবালপুর এলাকায়। শোনা যাচ্ছে নবি দিবস উপলক্ষে পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে এই হিংসার সূত্রপাত।
জানা যাচ্ছে, এর আগে ওই এলাকায় ৯০ এর দশকে পতাকা লাগানো নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। সেই সময় থেকে সেখানে কোনো ধর্মীয় পতাকা লাগানো হতো না। কিন্তু এবছর হঠাৎ করেই আবার পতাকা লাগানো শুরু হয়। ফলে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ তার প্রতিবাদ করে। সেই ঘটনায় বচসা ও হাতাহাতি হলেও সাময়িকভাবে তা থেমে যায়। মনে করা হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু তার কয়েক ঘন্টা পর বেশকিছু বাইক ভাঙ্গচুর করে হিংসা ফের উস্কে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর দোকান পাট, এমনকি দুর্গাপুজোর মন্ডপ ভাঙ্গচুর করা হয়। ইট পাটকেল ছোড়া, আগুন লাগানো, বোমা এমনকি গুলির চালানোর ঘটনাও সেখানে ঘটেছে বলে খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। জানা যাচ্ছে পরিস্থিতি মোকাবিলায় গিয়ে তিন উচ্চ পদস্থ পুলিশ আধিকারিকও আহত হয়েছেন। একবালপুর থানায় বিশেষ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পতাকা হাতে নিয়ে ঘেরাও করা হয়। এই সমস্ত ঘটনাবলির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ( সেই সব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আমাদের ভারত)
বাইক ভাঙ্গচুরের পর থেকেই এলাকা অশান্ত। প্রশাসন নিজের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হতে শুরু করেন একাধিক বিজেপি নেতারা। তাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশের সামনেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক ভিডিও পোস্ট করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি নেতা অমিত মালব্য প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।একের পর এক টুইট করে রাজ্য পুলিশের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরতে থাকেন পদ্ম নেতারা।
মোমিনপুর হিংসাকে শাসক দল তৃণমূলের স্পন্সরড দাঙ্গা বলে অভিহিত করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এই ঘটনায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন বিজেপি নেতারা।
রবিবারের হিংসার ঘটনার পর সোমবার সকালে মোমিনপুর যাওয়ার চেষ্টা করেন সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু তাঁকে রাস্তায় চিংড়ি ঘাটায় পুলিশ গ্রেফতার করে। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ওখানকার স্থানীয় মুসলিম যুবকরা এই দাঙ্গার জন্য দায়ী করে সোশ্যাল মিডিয়াতে যে নামগুলো ভাসিয়ে দিয়েছে, তারা প্রত্যেকেই দেখা যাচ্ছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরের আত্মীয় অথবা ফিরহাদ হাকিম সাহেবের খুব কাছের বন্ধু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের পুজো উদ্বোধনের জন্য গেছেন। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে এটা শাসক প্রযোজিত টিএমসি স্পন্সরড দাঙ্গা হচ্ছে।”
সন্ধ্যায় লালবাজার থেকে ছাড়া পান বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। মুক্তি পেয়ে বেরিয়েই সরাসরি তোপ দাগেন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। তার কথায় এই ঘটনা বাংলার মানুষের জন্য অশনি সংকেত। এই সরকার জেহাদিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি বলেন, “মোমিনপুর এলাকায় হিন্দুদের তফসিল সম্প্রদায়ের মানুষ কিভাবে নিপীড়িত শোষিত হয়েছেন সেটা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সবার সামনে ছড়িয়ে পড়েছে। এই সরকার সম্পূর্ণ ভাবে জেহাদিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। বাংলার মানুষের এটা ভাবা উচিত” গোটা রাজ্যে এটা নিয়ে পথ অবরোধ হয়েছে। তবে সেটা শুধু সুকান্ত মজুমদারের গ্রেপ্তারি নিয়ে নয়। তার থেকেও বড় ইস্যু মোমিনপুরে একবালপুরে যে ঘটনা ঘটেছে তা বাংলার মানুষের জন্য অশনি সংকেত বলে মনে হয়েছে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামাতে ও ঘটনায় এনআইএ তদন্তের দাবি করে অমিত শাহকে রবিবারেই চিঠি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই ইস্যুতে সোমবার তিনি রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই হিংসা নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্য পুলিশ ব্যর্থ। তার অভিযোগ, এই ঘটনায় ৫ হাজার হিন্দু ঘরছাড়া। তিনি স্লোগান দেন তারা দ্বিতীয় নোয়াখালী হতে দেবেন না মোমিনপুরকে। স্বাধীনতার সময় নোয়াখালীতে ১০ অক্টোবর বিরাট দাঙ্গা হয়েছিল। সেখানে অসংখ্য হিন্দুদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। জখম হয়েছিল অসংখ্য হিন্দু। এবার লক্ষ্মী পুজোর দিন সেই দিনটি পড়েছিল। বিজেপির তরফে টুইটারে করা একের পর এক পোস্টে মোমিনপুর হিংসাকে নোয়াখালী হিংসার সঙ্গে তুলনা করা হয়। যদিও শোনা যাচ্ছে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি করে প্রমোটিং-এর উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যাতে ভয় পেয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যায় মানুষ।

