স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ১৮ মার্চ: বাড়িতে অতিথি এসেছে তাদের মিষ্টিমুখ করাবেন। যদি সেই অতিথিদের হাতে “খেলা হবে” বা “টুম্পা সোনা” কিংবা “সোনার বাংলা” মিষ্টি বা সন্দেশ তুলে দেন তাহলে এই রাজনৈতিক সরগরমের বাংলায় তা কেমন হবে! হ্যাঁ এমনই অভিনব মিষ্টি পাওয়া যাচ্ছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ শহরের প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন ভান্ডার রসরাজ–এ। মিষ্টিতে মজাদার রাজনৈতিক স্লোগান পেয়ে বেজায় খুশি মিষ্টি প্রেমী রায়গঞ্জের বাসিন্দারা।

বাঙালীর বারোমাসে তেরো পার্বণেই নতুন নতুন মিষ্টির সম্ভার তৈরি করে রায়গঞ্জের প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন ভান্ডার রসরাজ। দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী কিংবা বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা নিয়ে হোক বা দীপাবলী কিংবা ভাতৃদ্বিতীয়া বা রাখী বন্ধন উৎসব হোক সব উৎসবেই মিষ্টিতে অভিনবত্বের ছোঁয়া থাকে তাদের মিষ্টি বা সন্দেশে। আর ভোট তো গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব। এই শ্রেষ্ঠ উৎসবকে স্বাগত জানাতে এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীক চিহ্ন দিয়ে মিষ্টি তৈরি করেছেন তারা। এবার বাংলার ভোটে সরগরম হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আকর্ষণীয় বিভিন্ন স্লোগানে। তাই রসরাজের মিষ্টিতেও ছোঁয়া রাজনৈতিক স্লোগানের। এখানে পাওয়া যাচ্ছে খেলা হবে, টুম্পা সোনা এমনকি সোনার বাংলা স্লোগান দেওয়া সুস্বাদু নানান ধরনের মিষ্টি। মজাদার রাজনৈতিক স্লোগানে ভরা এই মিষ্টি পেয়ে ও খেয়ে বেজায় খুশি রায়গঞ্জ শহরের বাসিন্দারা।

সুনন্দা সরকার নামে এক বাসিন্দা জানালেন, অভিনব এই উদ্যোগ। ভোটরঙ্গকে মিষ্টির মধ্যে তুলে ধরে অভিনবত্বের ছোঁয়া এনেছেন এই মিষ্টি বিক্রেতা।
চশমার দোকান খুলতে একটু দেরী আছে দেখে সইফুর রহমান রাস্তার উল্টোদিকে রসরাজে একটু মিষ্টি খেয়ে জলযোগ সারতে গিয়ে দেখতে পেলেন ভোটে সরগরম রাজনৈতিক স্লোগানের মিষ্টি। দামও সাধ ও সাধ্যের মধ্যে। সবধরনের মিষ্টিই এক একটি মাত্র ১০ টাকা। হাতে তুলে নিলেন খেলা হবে, সোনার বাংলা মিষ্টি। বললেন, আমরা যে যাই রাজনীতি করিনা কেন মিষ্টি তো সব বাঙালির প্রিয়। তাই ভোটের আবহে এই রাজনৈতিক স্লোগানে ভরা মিষ্টিমুখ করতে ভালোই লাগছে।

রায়গঞ্জের এই প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন ভান্ডারের অন্যতম কর্মকর্তা অরিজিৎ চৌধুরী বলেন, ভোট হল গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব, তাকে স্বাগত জানাতে এবং ভোটের আবহে মানুষের কাছে ভিন্নস্বাদ পাইয়ে দিতে তাদের এই উদ্যোগ। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন এই মিষ্টি বিক্রি করে৷

