সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৫ এপ্রিল: মাওবাদী সন্দেহে আটক দুই যুবকের সাত দিনের পুলিশি
হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে খাতড়া আদালত। গতকাল রবিবার বীরভূমের বোলপুর থেকে বাঁকুড়া পুলিশের একটি দল এই দু’জনকে আটক করে। ধৃত দুজনের এক জন বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র টিপু সুলতান ওরফে মুস্তফা কামাল এবং অপর জন, ছাত্র অর্কদীপ গোস্বামী। রবিবার সকালে শান্তিনিকেতন এলাকা থেকে তাদের আটক করে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। ধৃত দুই যুবককে বাঁকুড়া পুলিশ বারিকূলে আনে। বিশ্বভারতীর অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র টিপু সুলতান সেখানকার গুরুপল্লির বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার আগে দু’বার মাও যোগ সন্দেহে টিপু সুলতানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গত ২০১৯ সালে মাওবাদী সন্দেহে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল৷ এই মামলায় তিনি জামিনে ছাড়া পেয়েছিলেন। এই ঘটনার মাত্র দু’বছর পর ফের ২০২১ সালে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ মাওবাদী অভিযোগে দেশদ্রোহীতা আইনে তাঁকে গ্রেফতার করে। এবার মাওবাদী সন্দেহে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স শান্তিনিকেতনের গুরুপল্লির তার বাড়ি থেকে এদিন তাঁকে আটক করে।
উল্লেখ্য, এরাজ্যের ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার জঙ্গলমহল এলাকায় ফের মাওবাদীরা সক্রিয় হয়ে প্রভাব বাড়ছে এরকম জল্পনা চলছিল। এই তালিকায় বীরভূমের ঝাড়খণ্ড লাগোয়া এলাকাগুলির নাম রয়েছে। মাও সন্দেহে ধৃত এই দুই ব্যক্তিকে সোমবার খাতড়া মহকুমা আদালতে তোলা হয়।
সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া এসেছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য। বাঁকুড়া পুলিশ লাইনের সভাঘরে পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে জেলার মাওবাদী পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। অন্যদিকে জেলার জঙ্গল মহল এলাকা সারেঙ্গা, সিমলাপাল, রাইপুর ও রানীবাঁধে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই সব এলাকার রাস্তাগুলিতে গাড়ি আটকে তল্লাশি চালানো ও নাকাচেকিং জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গলমহল এলাকায় কর্মরত পুলিশের সাময়িক ছুটি বাতিল নির্দেশও জারি করা হয়েছে। জঙ্গল মহলজুড়ে হাই এলার্ট জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে রাজ্য পুলিশকে সর্তক করা হয়েছে যে, জঙ্গলমহল এলাকায় বড় ধরণের নাশকতা ঘটানোর ছক কষছে মাওবাদীরা।তারই ভিত্তিতে জঙ্গলমহল এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার জানিয়েছেন, যে কোনও নাশকতা রুখতে জেলা পুলিশ সতর্ক।

