আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২০ মার্চ: আগরপাড়ার নয়াবস্তি অঞ্চলে মহম্মদ আরমান খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে খড়দহ থানার পুলিশ শেখ বশির ও রমজান নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল। গ্রেপ্তারের পর তাদের দফায় দফায় জেরা করেন তদন্তকারী অফিসাররা। সেই সঙ্গে মৃতের আত্মীয়দেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাতে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
মহম্মদ আরমান খুনে ধৃত শেখ বশির এবং মহম্মদ আসিফ দু’জনের বাবাকেই খুন করেছিল মহম্মদ আরমান, সেই খুনের বদলা নিতেই আরমানকে খুন করা হল বলে অনুমান পুলিশের। ২০০৭ সালে মহম্মদ আসিফের বাবা মহম্মদ রিয়াজকে কুপিয়ে খুন করে আরমান, এরপর ২০১২ সালে শেখ বশিরের বাবা উজির আলী নস্করকেও কুপিয়ে এবং গুলি করে খুন করে মহম্মদ আরমান।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ১৫ দিন আগে জেল থেকে বেরিয়ে মহম্মদ আরমান শেখ বশির এবং মহম্মদ আসিফকে খুন করার হুমকি দিচ্ছিল। তাদের বাবাকে যেভাবে খুন করেছে ঠিক সেইভাবেই বশির এবং আসিফকে খুন করবে বলে হুমকি দিচ্ছিল আরমান,
এমনটাই অভিযোগ করেছে ধৃতরা। এরপর গতকাল আগরপাড়া নয়াবস্তি এলাকায় মহম্মদ আরমানকে শেখ বশির এবং মোহাম্মদ আসিফ একসাথে দেখতে পায় এবং আরমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং মাথায় ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করে দু’জন। যেহেতু আরমান তাদের বাবাকে খুন করেছিল এবং জেল থেকে বেরিয়ে তাদেরকেও খুনের হুমকি দিচ্ছিল সেই কারণেই তারা দু’জন মহম্মদ আরমানকে খুন করেছে বলে পুলিশি জেরায় এমনটাই উঠে আসছে বলে সূত্রের খবর।
অপর দিকে মৃত আরমানের ভাই শেখ রহমান জানালেন, আরমান টিটাগড়ের যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার থেকে কিছু টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর মাঝপথেই অভিযুক্ত রমজান মৃত আরমানকে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে যায় পানিহাটি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলানা সেলিম রোডে। সেখানেই নৃশংস ভাবে তাকে খুন করা হয়। খুনের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানালেন মৃতের ভাই শেখ রহমান। এদিন শেখ রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাইকে টাকার লোভ দিয়ে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলেছে। রমজান বলে একটা ছেলে আছে সে ডেকে নিয়ে গেছিল। আমার ভাইকে গলা কেটে মেরে দিয়েছে। ওই ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নানা রকম অসামাজিক কার্যকলাপ হয়। গাঁজা, চড়স বিক্রি হয় ঘরে ঘরে। এই সমস্ত কাজ বন্ধ হওয়া দরকার। আমার ভাইকে খুব নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাইছি।” এই ঘটনার পেছনে আর কে কে জড়িত আছে তার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

