বাবা সাহেব অম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি’তে ‘খাদি মহোৎসব’

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৩০ অক্টোবর: খদ্দরের প্রতিটি তন্তুতে ‘ঈশ্বর খোঁজের’ কথা বলেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। মূলত তাঁর এবং তাঁর অনুগামীরা খদ্দরকে এদেশে এমন একটা স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন যে স্বাধীনতার ৭/৮ দশক বাদেও দেশবাসীর একটা বড় অংশের সঙ্গে খদ্দরের বন্ধন ছিন্ন হয়নি। সোমবার কলকাতায় ‘খাদি মহোৎসব’ নামে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বাবা সাহেব অম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির (বিএসএইইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১ এপ্রিল ১৯৬০ থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ’ তার কর্মযাত্রা শুরু করে। গান্ধিজির আদর্শে অনুপ্রাণিত এই সংস্থা খাদি ও গ্রামীণ শিল্পের উন্নতিকল্পে কার্যকাল শুরু থেকেই নিরবিচ্ছিন্ন ও নিরলস প্রচেষ্টায় যেভাবে তাদের রত থাকার কথা, ততটা কি পেরেছে? বাংলার সমস্ত ধর্মীয় সার্কিটকে জুড়ে পর্যটনে নতুন ধারা আনার উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বছর দেড় আগে রাজ্য সরকার এ কথা জানিয়ে দাবি করে, বাঙালির ভাবাবেগকে প্রাধান্য দিয়ে সমস্ত পুণ্য তীর্থক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত মানুষ ও পুণ্যার্থীর জন্য বড়ো সুযোগ আনছে রাজ্য খাদি ও গ্রামোদ্যোগ বোর্ড। প্রথম আউটলেটটি হচ্ছে মায়াপুরে ইসকনের নতুন মন্দির চত্বরে। তারপর একে একে দক্ষিণেশ্বর, আদ্যাপীঠ, কালীঘাট, তারাপীঠ, কংকালীতলা, কনকদুর্গার মন্দিরের মতো সমস্ত বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্রর পাশাপাশি নানা অখ্যাত তীর্থক্ষেত্রেও খাদির আউটলেট গড়ে উঠবে। এই সিদ্ধান্তকে বাংলা এবং জাতীয় ক্ষেত্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করেছিলেন। কিন্তু আর পাঁচটা সরকারি দাবির মত এটাও রয়ে গিয়েছে মুখের বুলির মত।

সোমবার অবশ্য উপাচার্য সোমা বলেন, স্বদেশি যুগে স্বাধীনতা আন্দোলনকারীদের প্রেরণার অন্যতম উৎস ছিল খাদি। যুগান্তরের সঙ্গে বদলানো হচ্ছে খাদির প্রতি মানুষের আকর্ষণের ঘরানা। এখনকার শ্লোগান হচ্ছে ‘খাদি ফর ন্যাশন, খাদি ফর ফ্যাশন’।

উপাচার্য বলেন, সবরমতী আশ্রম থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল এর আবেদন। এখনও আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায় রজনীকান্ত সেনের রচিত ও সুরারোপিত কালজয়ী একটি গান (কান্তগীতি) মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নে রে ভাই/ দীন-দুঃখিনী মা যে তোদের তার বেশী আর সাধ্য নাই।

এ দিন মঞ্চে খাদি ও গ্রামোদ্যোগ কমিশনের সুনন্দন দাস, কমিশনের আধিকারিক (ইএমও) পবিত্র সরকার, অপর আধিকারিক সঞ্জয় শীল, ন্যাশনাল চেম্বার ফর কটেজ ইণ্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান তাপস দে, সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্রের অধিকর্তা কল্লোল ঘোষ প্রমুখকে অভ্যার্থনা জানানো হয়। এদেশে এবং এই রাজ্যে খদ্দরের উপযোগিতার ওপর তাঁরা আশাবাদের কথা বলেন।

এ দিন অনুষ্ঠানের আগে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই খদ্দরের একগুচ্ছ অস্থায়ী বিপনীর উদ্বোধন করেন উপাচার্য। পরিবেশিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকি সঙ্গীত। মঞ্চে আলোচনাশেষে ধন্যবাদ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠান শেষে পরিবেশিত হয় ‘রঘুপতি রাঘব রাজা রাম’ নামে ‘ফ্যাশন শো’, ‘বৈষ্ণব জনতা গান’ এবং জাতীয় সঙ্গীত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *