“চার্জশিটে নাম কেষ্টর, জেলা সভাপতি পদ থেকে সরালেই কি সব বলে দেবে অনুব্রত? ভয় পাচ্ছেন মমতা,” কটাক্ষ সুকান্তর

আমাদের ভারত, ৫ মে: নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হতেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দলীয় পদ থেকে সরানো হয়েছিল। এদিকে আদালতে ইডির জমা দেওয়া চার্জশিটে অনুব্রত মন্ডলের সম্পর্কে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তারপরও অনুব্রত মণ্ডলকে বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়নি। আর তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি ভয় পাচ্ছেন? অনুব্রত মণ্ডলকে জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিলে কাটমানির ৭৫ শতাংশ কোথায় গেছে সেটা অনুব্রত মণ্ডল বলে দেবে।

গরু পাচার মামলায় ইডির দাখিল করা চার্জশিটে বিএসএফের একাংশের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে সুকান্ত বলেন, “এমন তো নয় যে, বিএসএফ টেন্ডার করে বলেছে আসুন, চলুন গরু পাচার করি। যদি বিএসএফের কোনো আধিকারিক বা জওয়ানের সহযোগিতায় গরু পাচার হয়ে থাকে তাহলে তাদের গ্রেফতার করতে হবে।”

গরু পাচার মামলায় বীরভূমের এক লটারি ব্যবসায়ী স্বীকার করেছেন যে, গরু পাচারের কালো টাকাকে সাদা করতে এই লটারিকে ব্যবহার করা হতো। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, গোটা চক্রান্ত যেভাবে চলেছে তাতে স্পষ্ট অনুব্রত মণ্ডল একজন পাকা আসামির মত পরিকল্পনা করে কাজ করেছেন। তাতে লটারিও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

অন্যদিকে ইডি আরো দাবি করেছে, অনুব্রত এতটাই প্রভাব শালী যে, দিল্লি যাওয়ার সময় জেলের এক আধিকারিক ঠিক করে দিয়েছিলেন শক্তিগড়ে কোন দোকানে অনুব্রত যাবেন, কাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, শুধু প্রশাসনের উপরেই অনুব্রত মণ্ডলের প্রভাব আছে এমনটা নয়। অনুব্রত মণ্ডলের মাথার ওপরে অন্য কারোর হাতও আছে। অনুব্রত মণ্ডল যেমন লতিফ সহ অন্যান্যদের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এদের মাথায় যেমন অনুব্রত মণ্ডলের হাত ছিল তেমন অনুব্রত মণ্ডলের মাথার উপরও কারো না কারো হাত ছিল। যে ১২ কোটি, ১৪ কোটি উদ্ধার হয়েছে দেখতে পাচ্ছি সেটা তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। ২৫ শতাংশ। কিন্তু ৭৫ শতাংশ কোথায় গেল? হিমশৈলের যে নিচের ভাগটা থাকে সেটা কোথায় গেল? কে আইসক্রিম বানিয়ে খেয়ে ফেলেছে? সেটা দেখতে হবে।

বিজেপি নেতার দাবি, “অনুব্রতকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিয়ে যাওয়া আটকাতে সব রকম চেষ্টাই প্রশাসন এবং তৃণমূল কংগ্রেস করেছে। কিন্তু চার্জশিট দিয়ে দেওয়ার পরেও এখনো বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতির নাম অনুব্রত মণ্ডল। তৃণমূল কংগ্রেস জেলা সভাপতি পদ থেকে অনুব্রত মণ্ডলকে সরায়নি। কটাক্ষের সুরে সুকান্ত মজুমদার বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি ভয় পাচ্ছেন, যে অনুব্রত মণ্ডলকে জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিলে ৭৫% কোথায় গেছে সেটা বলে দেবেন অনুব্রত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *