কুমারেশ রায়, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭ জুন:
ফের তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলে উত্তপ্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর। দুদিন ধরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এমনকি পুলিশের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে কেশপুরে ১০০ দিনের প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই মিছিলে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঘটনা। কেশপুর থানার গরগজপোতা এবং শাকপুর দুই গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গতকালের পর মঙ্গলবার সকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, শুরু হয় বাঁশ, লাঠি নিয়ে মারামারি। ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যে চারজনকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছয়। পুলিশের সাথেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শাসকদলের নেতারা। এলাকায় রয়েছে উত্তেজনা, পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়ন রয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।

এই বিষয় নিয়ে বিজেপি কটাক্ষ করতে শুরু করে দিয়েছে। বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাস বলেন আসলে কার দখলে থাকবে এলাকা, সেই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে লড়াই।
প্রসঙ্গত সোমবার সভা থেকে পুলিশকে সময় চেয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন দাপুটে তৃণমূল নেতা মোহাম্মদ রফিক। তিনি বলেছিলেন, কেশপুরে কিছু ঘেউ ঘেউ পার্টি আছে। কেশপুর থানার পুলিশ ও আনন্দপুর থানার পুলিশদের বলব আধঘন্টা আপনারা থানায় থাকুন, একটু এসি এবং ফ্যানের বাতাস খান। আমাদের একটু সময় দেন খেলতে। দেখবেন কেমন খেলা হবে কেশপুরের মাটিতে। সেই খেলা দেখাতে আমাদের আধ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না।” রফিকের এই বক্তব্য নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপি নেতা তনময় দাস।
যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনা অস্বীকার করলেন বিধায়ক তথা জেলার তৃণমূল নেতা অজিত মাইতি। তিনি বলেন এটি দুটো পাড়ার মধ্যে সমস্যা, এটা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে হবে না পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

