পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৪ ফেব্রুয়ারি: নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের উত্তেজনা ছড়ালো পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরে। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অন্তত ১২ জন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি দলের নেতৃত্বের। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপারের দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসে বিজেপি। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

জানাগিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে কেশপুর বিধানসভার অন্তর্গত আনন্দপুর থানার রামকাটা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই এলাকায় বিজেপির কর্মীদের একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠক চলছিল। অভিযোগ, বৈঠক শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালায় একদল তৃণমূল কর্মী।
বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাসের দাবি, ঘটনায় তাঁদের দলের প্রায় ১৫ জন কর্মী আহত হন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ৫০ জন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী বিজেপি কর্মীদের ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করেন। পাশাপাশি একাধিক মোটর সাইকেল ভাঙ্গচুর করা হয় বলেও দাবি তাঁর।

এলাকার বিজেপির মণ্ডল সভাপতি তাপস অধিকারী বলেন, দলীয় বৈঠক চলাকালীনই তৃণমূল কর্মীরা সেখানে এসে ভিডিও করে চলে যায়। বৈঠক শেষে বেরনোর পরই তাঁদের কর্মীদের উপর বাঁশ ও লাঠি নিয়ে নির্মম হামলা চালানো হয়।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। জেলা পরিষদের সদস্য ও তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিকের দাবি, মঙ্গলবার ওই এলাকায় বিজেপির কর্মীরা পিকনিক করতে এসেছিলেন। মদ্যপানের জেরেই তাঁদের নিজেদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও যোগ নেই বলেও তাঁর দাবি।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে ঘটনার তদন্ত করা হবে। যদিও বিজেপির দাবি, বিষয়টি পুলিশকে জানাতে গেলে তাঁদেরই হুমকি দেওয়া হয়েছে।

