পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ মার্চ: তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উতপ্ত কেশপুর। আহত পাঁচ। ঘটনাটি ঘটে শনিবার সন্ধ্যায় কেশপুরের দোগাছিয়া গ্রামে।
জানা গিয়েছে, গ্রামে জলসার অনুষ্ঠানের রান্নাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। তবে গ্রামে উত্তেজনা আগে থেকেই ছিল দিঘি লিজের টাকা নিয়ে। স্থানীয়রা জানান, মাছ চাষের জন্য ওই দিঘি লিজ দেওয়া হয় ৩৭ লক্ষ টাকায়। সেই টাকা কার দখলে থাকবে তা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ লেগেইছিল। পাশাপাশি এদিন ওই গ্রামে চলছিল ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আগত লোকজনের খাওয়ার জন্য রান্নার আয়োজন করা হয়েছিল গ্রামের তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে। তা নিয়েও দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে মত পার্থক্য শুরু হয়। অন্য একটি গোষ্ঠী বাধা দিয়ে জানায়, দলীয় কার্যালয়ের সামনে রান্না হবে না। এ নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। রক্তারক্তি পরিস্থিতি তৈরি হয় শনিবার সন্ধ্যায়। আহত হয় উভয় পক্ষের পাঁচজন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কেশপুর গ্রামীণ হাসপাতাল, পরে সেখান থেকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এলাকায় পৌঁছায় কেশপুর থানার পুলিশ।
আহত এক ব্যক্তির ভাই সেক আসমাদ আলি বলেন, “গ্রামে জলসার অনুষ্ঠান চলছিল। ব্লক সহ সভাপতির ৩০ জন অনুগামী এসে পার্টি অফিসের ভেতরে থাকা পঞ্চায়েত সদস্যের অনুগামীদের বেধড়ক মারধর করে। তাতে আমার দাদা আহত হয়েছেন। গ্রামে একটি দিঘি রয়েছে। ৩৭ লক্ষ টাকায় লিজ দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা পঞ্চায়েতের কাছে আছে। অন্য গোষ্ঠীর লোকেরা চাইছে সেই টাকা নিতে। ওই টাকাকে কেন্দ্র করেই সমস্যা।”
এই ঘটনা নিয়ে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি আশিষ হুদাইত জানান যে, কেশপুরে কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ নেই, কেশপুর এ সবাই তৃণমূল কংগ্রেস করে। পাড়াগত সমস্যা, পারিবারিক সমস্যা, জমি সংক্রান্ত বিরোধ সবকিছুতেই রাজনৈতিক রং ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখা হচ্ছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

