শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ফের ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বন্ধ হল কেলভিন জুটমিল, বেকার ৪ হাজার শ্রমিক

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৫ এপ্রিল: বেশ কিছুদিন ধরেই টিটাগড় কেলভিন জুটমিলে অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা চলছিল। বেশ কিছু দিন ধরে মিলের বিভিন্ন বিভাগে একেক জন শ্রমিককে দিয়ে একের বেশি মেশিন চালানোর কথা বলা হচ্ছিল। মঙ্গলবার শ্রমিকরা সকালে কাজে যোগ দিলে তাদের কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ায় টিটাগড় কেলভিন জুটমিলের শ্রমিকরা উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। যতক্ষন না বাড়তি কাজের চাপ মিল কর্তৃপক্ষ না কমাবে ততক্ষন তারা কাজে যোগ দেবেন না বলেও জানিয়ে দেয়। এছাড়াও মিলে কিছু বিভাগে কাজ কম হওয়ায় সেই বিভাগের শ্রমিকদের অন্য বিভাগে স্থানান্তরিত করার কথা চলছিল। একটি জায়গা থেকে আরেকটি জায়গায় শ্রমিকদের স্থানান্তরিত করা নিয়ে গতকাল একটি মিটিং হয় মিল কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে। আজ সেই শ্রমিকদের পরিবর্তিত জায়গায় কাজ করার কথা বলা হলে তারা কাজ করতে অস্বীকার করেন। একদিকে বেতন কম দিয়ে শ্রমিকদের বেশি কাজ করিয়ে নেওয়া ও শ্রমিকদের দিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর চাপ, তাদের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে স্থানান্তরিত করার তীব্র প্রতিবাদ করেন মিলের সমস্ত শ্রমিকরা। যার জেরে বন্ধ হয়ে যায় মিলের উৎপাদন।

অভিযোগ, কাজ করতে রাজি না হওয়া মিল শ্রমিকরা অন্যান্য মিল শ্রমিক এবং মিলের ইউনিয়ন নেতাদের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসে টিটাগড় থানার পুলিশ। শ্রমিকরা পুলিশের গাড়ির উপরে চড়াও হয় এবং পুলিশকে ধাক্কাধাক্কিও করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় চলছে পুলিশ টহল।

শ্রমিকরা কাজ না করে মিল থেকে বেরিয়ে গণ্ডগোল শুরু করলে মিল কর্তৃপক্ষ মিলের গেটে সাসপেনশন অফ ওয়ার্কের নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়ে মিল বন্ধ করে দেয়।
এই জন্য কাজ হারালো চার হাজার শ্রমিক।

এদিনের এই ঘটনা সম্পর্কে শ্রমিকদের অভিযোগ, “মিল কর্তৃপক্ষ টাকা না বাড়িয়ে কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এক জন শ্রমিককে দুটো বা কখনো কখনো একসাথে ৪ টে মেশিন চালানোর কথা বলছে। এটা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই আমরা কাজের পরিমাণ কমানোর দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু মিল কর্তৃপক্ষ আমাদের কথা শুনতে রাজি না। তাই মিল বন্ধ করে দিয়েছে।”

অপর দিকে ক্ষিপ্ত মিল শ্রমিকরা যাদের বাড়ি ভাঙ্গচুর করেছে বলে অভিযোগ করে সেই শ্রমিক পরিবার বলে,
“আমরা মিলের কিছুই জানি না কিন্তু হঠাৎ করেই আমাদের ঘরে ঢুকে আমাদের সমস্ত জিনিস ভেঙ্গে দিয়েছে। আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। প্রায় ২০০ লোক চড়াও হয়েছিল এরা সবাই মিলের শ্রমিক ছিল কিন্তু আমাদের ওপর এরকম কেন করলো বুঝতে পারছি না।”

তবে এ ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ মিল কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক ও মালিকের এই অসন্তোষের জেরে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মিলের শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *