সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৭ জানুয়ারি: দিকে দিকে হিন্দুদের উপর অত্যাচার, নারী ধর্ষণ, হিন্দু ধর্মের অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে সরব পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ। আজ শহরের উপকন্ঠে বলরামপুর গোশালা ময়দানে আয়োজিত হিন্দু সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারত মে রহনা হোগা তো বন্দেমাতরম্ কেহনা হোগা। ভারতে থাকতে হলে ভারতমাতা কি জয় বলতে হবে। সভায় হিন্দু ধর্মের তাৎপর্য, হিন্দুদের করণীয়, গীতা- রামায়ণ ও মহাভারত- এর বিভিন্ন কাহিনী তুলে ধরে ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি বর্তমানে হিন্দুদের উপর অত্যাচার, অবিচার এবং হিন্দু ধর্মের অপব্যাখ্যা নিয়ে সরব হন তিনি।
সম্প্রতি কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে অনুষ্ঠিত পাঁচ লক্ষ কন্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান ঘিরে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক ব্যনার্জির নাম না করে তিনি বলেন, কেন ময়দানে গীতা পাঠ হবে বলে প্রশ্ন তুলেছেন এক যুবনেতা, তিনি আবার গীতার উল্টোপাল্টা শ্লোকও আওড়েছেন। সেই মূর্খ’কে বলে, ওহে মূর্খ কুরুক্ষেত্র যুদ্ধটা ময়দানেই হয়েছিল, এত লোক একসাথে কোথায় গীতা পাঠ করবে? তিনি বলেন, এখন সমন্বয়ের কথা বলা হচ্ছে, আমরা হিন্দুরা গোমাতার সেবা করি, যত্ন করি, তাকে নিজহাতে রুটি খাওয়াই, আর অপর এক শ্রেণির লোক রুটি দিয়ে গো মাংস খায়। সুতরাং যেখানে এই মনোভাব সেখানে সমন্বয়? কখনোই সম্ভব নয়বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিন তিনি স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে হিন্দু ধর্মের অপব্যাখা নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেক সনাতনীকে সরব হওয়ার আবেদন জানান। হিন্দুদের উদারতার সুযোগ নিয়ে হিন্দু দেব- দেবীর বিকৃত ছবি আঁকা হচ্ছে। শিল্পের স্বাধীনতার নামে নগ্ন দেবী সরস্বতীর ছবি আঁকেন মকবুল ফিদা হুসেন। আমরা তার প্রতিবাদ করতে গেলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেন, এটা শিল্পীর স্বাধীনতা। আমি সেদিন বুদ্ধদেব বাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলাম, বুদ্ধবাবু মা সরস্বতীর পরিবর্তে যদি কারোর মা- ভগ্নীর ছবি আঁকেন, তখন মেনে নেবেন কেউ? হিন্দু ধর্মকে রক্ষা করতে একহাতে শস্ত্র অন্য হাতে অস্ত্র ধারণ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ধর্ম জ্ঞানী হয়েও হাতে অস্ত্র না থাকায় পূর্ব পাকিস্তান অধুনা বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় গুরুদের পালিয়ে আসতে হয়েছিল, কেউ পরিত্রাণ পায়নি। সুতরাং হিন্দুর অস্তিত্ব রক্ষায় অস্ত্র হাতে নিতে হবে।
গত তিনদিন যাবৎ কার্তিক মহারাজ বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সভা করে চলেছেন। আজ সকালে ঝাটিপাহাড়িতে সভা সেরে দুপুরে বাঁকুড়া শহরের উপকন্ঠে হাজির হন। তাকে উলুধ্বনি ও শঙ্খ বাজিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। হিন্দু একতা মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত হিন্দু সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। একতা মঞ্চের কার্যকরী সভাপতি রাম অবতার আগরওয়াল জানান, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অত্যাচারিত হিন্দুদের সংগঠিত করার লক্ষ্যে আজকের এই কর্মসূচি।হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করতে একতা মঞ্চ কাজ করে যাবে।
এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সংযোজক রনধীর মুখোপাধ্যায়। সরস্বতী শিশু মন্দিরের ছাত্র- ছাত্রীরা বন্দেমাতরম সঙ্গীত ও গীতা পাঠ করেন। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন শক্তিমায়া সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বৃন্দাবন বরাট।

