আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ৫ মে: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্যে এই প্রথম বড় সভা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর সেই সভা থেকে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করলেন সিএএ হবেই। কোনোভাবেই সিএএ লাগু হওয়া আটকাতে পারবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলিগুড়ির সন্নিকটে নিউ জলপাইগুড়ি রেলওয়ে ময়দানের বিরাট জনসভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দ্যেশ্যে শাহের ঘোষণা, “করোনা কমলেই সিএএ হবে। মমতা দিদি আপনি কিছুই করতে পারবেন না।”

আজ বক্তব্য রাখতে উঠেই অমিত শাহ সিএএ’র প্রসঙ্গ টেনে আনেন। কারণ বিজেপি সিএএ নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেটা কার্যকর না হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাই এই বিষয়ে অমিত শাহ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন সিএএ বাস্তবে ছিল আছে। তিনি বলেন, ” উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের কাছে পরিষ্কার করে দিতে চাই তৃণমূল সিএএ’র বিরোধিতা করছে। সেই কারণে তারা এর সম্বন্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। ওরা বলছে সিএএ নাকি কোনো দিন বাস্তবের মাটিতে জারি হবে না। কিন্তু আমি আজ পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, করোনার দাপট কমলেই আমরা সিএএ জারি করবো এবং আমাদের ভাইদের নাগরিকত্ব দেবো”। অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, “দিদি আপনি তো এটাই চান যে, অনুপ্রবেশকারী থাকুক এবং বাংলাদেশ থেকে যে শরণার্থীরা এসেছেন তারা নাগরিকত্ব না পান। কিন্তু তৃণমূলের লোকজন কান খুলে শুনে নিন সিএএ বাস্তবে ছিল আছে থাকবে। মমতা দিদি আপনি কিছুই করতে পারবেন না।”
এদিন বক্তব্যের শুরুতেই রাজ্যের মানুষকে ধন্যবাদ জানান বিজেপির চাণক্য। তিনি বলেন,”বাংলা তথা উত্তরবঙ্গের মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। যখন লড়তে নামলাম তখন মাত্র তিনটি আসন ছিল। এখন আমরা ৭৭। এর জন্য বাংলার মানুষকে আমি ধন্যবাদ জানাই। বিজেপিকে ২ কোটি ২৮ লক্ষ ভোট দিয়ে গ্রামবাংলায় দলকে মজবুত করেছেন।”

এদিন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা মানুষের রায় মেনে নিয়েছি। আমরা ভেবেছিলাম মমতা দিদি মনে হয় এবার শুধরে যাবেন। কিন্তু এক বছর পরে দেখেছি বাংলায় অত্যাচার কমেনি। কাটমানি বন্ধ হয়নি। দুর্নীতি চলছেই। সিন্ডিকেট রাজ চলছে। বিজেপি নেতা কর্মীদের খুন করাও বন্ধ হয়নি”।
যেমন এরাজ্যে হাঁসখালি ও বগটুইতে বিজেপির তথ্য অনুসন্ধানকারী দল এসেছে। তেমনি উত্তরপ্রদেশে দিল্লি সহ একাধিক জায়গায় গণধর্ষন ও খুনের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গিয়ে পৌঁছেছে। তৃণমূলের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে অমিত শাহ বলেন, “দিদি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছেন। ভালো কথা। বীরভূমের বগটুই’তে কি পাঠিয়েছিলেন?” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে আগামী লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ একটা বড় ইস্যু হতে চলেছে। আজ নিউ জলপাইগুড়িতে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গ টেনে আনেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। অমিত শাহ বলেন, “উত্তরবঙ্গকে মমতা দিদি সবসময় অবহেলা করেছেন। কিন্তু বিজেপি উত্তরবঙ্গকে প্রকৃত মর্যাদা দিয়েছে। আগামী দিনেও দেবে।” মমতাকে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, “দিদি মনে রাখবেন, জিটিএ ভোট করে আপনি গোর্খা ভাইবোনদের কিনতে পারবেন না।”

