আমাদের ভারত, ২১ আগস্ট:
সোমবার উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা কল্যাণ সিংয়ের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকীর দিনটি “হিন্দু গৌরব দিবস”হিসেবে পালন করছে বিজেপি। আলিগড়ের গ্রামে মৃত্যুদিন পালনের উৎসবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সহ আরো অনেকে। আজ আট্রউলিতে ৫০ হাজার মানুষ সমাবেশের আয়োজন করেছে বিজেপি।
৬ ডিসেম্বর বাবরি ধ্বংসের পর, কল্যাণ সিংয়ের সরকারকে কেন্দ্রের তৎকালীন কংগ্রেস সরকার বরখাস্ত করে। সেই সময় থেকেই বিজেপি তথা হিন্দুত্ববাদীরা কল্যাণ সিংকে হিন্দু বীরের মর্যাদা দিয়ে আসছেন। মুখ্যমন্ত্রীত্ব চলে যাওয়ার পরেও তাঁর কৃতিত্ব প্রচার চলেছে। কল্যাণ সিং রাজস্থানের রাজ্যপাল হয়েছিলেন। সেই সময় প্রমাণের অভাবে মসজিদ ধ্বংসের উস্কানি দেওয়ার তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের ভিত্তিতে যে মামলা হয়েছিল তার থেকে তিনি রেহাই পেয়েছিলেন। মোদী সরকার গত বছর কল্যাণ সিং’কে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণ উপাধি দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রী সন্দীপ সিং জানিয়েছেন কল্যাণ সিং এর জীবনী স্কুলের পাঠ্যের অংশভুক্ত করা হবে। কিছুদিনের মধ্যেই রাজ্য সরকার এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করবে। মন্ত্রিসভায় এই বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে।
এছাড়া কল্যাণের স্মৃতিতে আলিগড়ের রামঘাট রোডের নাম পরিবর্তন করে রামঘাট কল্যাণ মার্গ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই রাস্তাটি চার লেনের করতে ৫১৭ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।
১৯৯২ সালে ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন কল্যাণ সিং ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীরা অভিযোগ করেন, কল্যাণের নির্দেশেই পুলিশ প্রশাসন সেদিন কিছু করেনি। হিন্দু করসেবকরা মসজিদ ভেঙ্গে ফেলে পুলিশের সামনেই। মোদীর জমানায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই বাবরি মসজিদের জায়গাতেই এখন রাম মন্দির তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আগামী জানুয়ারিতে সেটি উদ্বোধন করবেন। মনে করা হয় বিজেপি তথা হিন্দুত্ববাদীদের স্বপ্ন পূরণের অন্যতম কারিগর ছিলেন উত্তরপ্রদেশের এই নেতা। মসজিদ অক্ষত থাকলে অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সেখানে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিত না ।
২০২১ সালের একুশে আগস্ট কল্যান সিং মারা যান। গত বছর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী হলেও এবারের মতো গুরুত্ব দিয়ে সেটা পালিত হয়নি। মনে করা হচ্ছে, লোকসভা ভোটে হিন্দু ভোট ব্যাংকের কথা মাথায় রেখেই হিন্দু আইকন হিসেবে কল্যাণকে তুলে ধরতে চলেছে পদ্ম শিবির। তাই এই আয়োজন তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে।

