আমাদের ভারত, দার্জিলিং, ৩০ জুলাই: বৃহস্পতিবার রাত থেকে কালিম্পংয়ে লাগাতার বৃষ্টির ফলে একাধিক জায়গায় ধস নামে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ধসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালিম্পংয়ের ৩৮টি পরিবার। তাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ধসের ফলে শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং ও সিকিমের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। কালিম্পং জেলা পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিম্পংয়ের মামখোলায় সেভক রংপো রেল প্রকল্পের কাছে ফের ধস নামে। এছাড়া আন্ধেরিঝোরা, ভালুখোলা ও মাল্লিতে আরও বড়সড় চারটি ধসের ঘটনা ঘটেছে।
মামখোলার ধসের ঘটনায় রেল প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ক্যাম্প ধসের নীচে চাপা পড়ে যায়। ক্যাম্পে সেই সময় ৭জন শ্রমিক ছিলেন। প্রত্যেকেই ধসে চাপা পড়ে যান। এরপর স্থানীয়রা প্রথমে ঘটনাস্থলে মৃত এক শ্রমিককে ধসের নীচ থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম ধন সিং ভান্ডারি (৩৫)। সে নেপালের বাসিন্দা। এছাড়া পরে আরও একজন মারা যায়। তার নাম রোহিত তির্কি(১৯)। তার বাড়ি আলিপুরদুয়ারে। এছাড়া অরুণ রাই, বিকাশ তামাং ও ডম্বের রাম এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। জানা গিয়েছে এরা সকলেই ওই সময় রেল প্রকল্পের কাজ করছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় আরও দুই শ্রমিক। তাদের সিকিমের সিংথাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত শ্রমিকরা হল ভজন দাস ও অলোক দেরা।
এপ্রসঙ্গে কালিম্পংয়ের জেলাশাসক আর বিমলা বলেন, “উদ্ধার কাজ চলছে। এখনও তিনজন নিখোঁজ রয়েছে। সিকিম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ট্রাফিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। পঞ্চাশটিরও বেশি পরিবারকে সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জেলা প্রশাসন, জিটিএ আধিকারিক, বিপর্যয় মোকাবিলা দল, রেল আধিকারিকরা। এছাড়াও ঘটনাস্থলে আসেন বিমল গুরুং। তিনিও এসে প্রশাসনিক কর্তাদের সাথে কথা বলে খোঁজখবর নেন। এদিকে ধস সরাতে ও উদ্ধার কাজের জন্য তিস্তায় নামানো হয়েছে র্যাফটিং দল। পাশাপাশি ডাবগ্রাম থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দল গিয়েছে। নিখোঁজদের তল্লাশির জন্য শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট থেকে পাঠানো হয়েছে একটি স্নিফার ডগ। সহযোগিতা চেয়ে পাঠানো হয়েছে সিকিম পুলিশের।
এবিষয়ে পুলিশ সুপার হরেকৃষ্ণ পাই বলেন, “রেল প্রকল্পে দুর্ঘটনা ছাড়াও আরও অন্তত পাঁচটি ধস পড়েছে। শিলিগুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। পুলিশ কর্মী সহ র্যাফটিং দল উদ্ধারের কাজ করে চলছে।

