অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৩১ মে: দীর্ঘ জেরার পর মঙ্গলবার রাতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। খবরটিতে প্রবল প্রতিক্রিয়া হয়েছে।
একটি সংবাদ চ্যানেল এই খবর ফেসবুকে পোস্ট করার পর বুধবার বেলা ১২টায় লাইক ও মন্তব্য এসেছে যথাক্রমে ৩ হাজার ২০০ ও ৫৪০।
প্রতিক্রিয়ায় রাজু দাস লিখেছেন, “গ্রেফতার কালিঘাটের কাকু, বাকি রইলো তাহলে কালিঘাটের ডাকু।” ধৃতের পদবী স্মরণ করে শুভজিৎ ভট্টাচার্য লিখেছেন, “ভদ্র কাকু মোটেও ভদ্র না।”
উত্তম দত্ত লিখেছেন, “এটাই হবার ছিলো, এরপর রয়েছেন তার স্যার।” সমীর মাহাত লিখেছেন, “এরপর ভাইপো।” চার ধরণের হাস্যমুখ (স্মাইলি)-সহ বড় হরফে ডালিয়া ঘোষাল লিখেছেন, “কালী ঘাটের কাকু ঘোর কলি মনে হইতাছে। কাকু গো ও কাকু।” অপর মন্তব্যে লিখেছেন, “এরপর কু উ উ উ কু উ উ উ।”
ঐন্দ্রিলা গাঙ্গুলি লিখেছেন, “কাকু ভাইপোকে ছেড়ে থাকবে কি করে রে। ইডি-র কি উচিৎ হল দুজনকে আলাদা করা?“ মহম্মদ রফিক লিখেছেন, “ভাইপো ছাড়া কাকুকে একবারে বেমানান লাগছে।” প্রদীপ দাস লিখেছেন, “কালীঘাটের কাকুর পরে এবার ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জির পালা।” তপন মিশ্র লিখেছেন, “সমস্ত শক্তির উৎস কালিঘাট।” পরেশ মুখার্জি লিখেছেন, “কথায় আছে পাপ কোনদিন চাপা থাকে না একদিন না একদিন সবার সামনে আসবে, দেখা যাক কে দোষী আর কে দোষী নয় সবই উপরওয়ালার হাত।”
কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী সব্যসাচী চ্যাটার্জি পৃথক পোস্টে লিখেছেন,
“কালীঘাটের কাকু গেলো,
কুড়ির পাউচ দিশি,
আর একটু সবুর করো,
ঢুকবে ভাইপো-পিসি!”
বেলা সাড়ে ১১টায় এই পোস্টে ৪১টি প্রতিক্রিয়া। অরিন্দম দাস লিখেছেন, “কমরেড গৌতম দেবের কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে।“
মঙ্গল দাস লিখেছেন, “সেই রকম পরিস্থিতি হলে ত্রিপুরার মতো পুরো দলটাকে নিয়ে বিজেপিতে বিলীন হয়ে যাবে।” দেবরাজ কুমার লিখেছেন, “ভাইপোকে গ্রেফতার করলেও পঞ্চায়েত / লোকসভা ভোটের আগে করবে। তার কিছুদিন পরে ছেড়ে দেবে জামিনে। এর বেশি কিছু হবে না। আদৌও গ্রেফতার করবে কি না সেটাও সন্দেহ আছে।”
একটা ফ্যাসিস্ট সরকার যে আইন আদালত, তদন্তকারী সংস্থা সবকিছু ম্যানিপুলেট করছে, সে কেন তাদের স্বাভাবিক মিত্রদের বিপদে ফেলে বামপন্থীদের রাস্তা মসৃণ করে দেবে?? হ্যাঁ, যাদের গ্রেফতার করেছে বা করেছে সেটা বাধ্য হয়ে। ওটা না করলে মানুষ ওদের চালাকিটা খুব সহজে বুঝে ফেলতো।”
পৃথক পোস্টে কলম-লেখিকা দেবযানী ভট্টাচার্য লিখেছেন, “কালীঘাটের কাকুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করা হচ্ছিল। নিয়োগ দুর্নীতির পাশাপাশি এ হেন কালো টাকার এক অংশ কয়লা ও গরু চুরি থেকেও এসেছে এমন হওয়াই স্বাভাবিক। এযাবৎ প্রকাশিত সংবাদ সমূহ থেকে মনে হয় এ বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেটের হাতে তথ্যপ্রমাণের কোনো অভাব নেই। কিন্তু এই সকল তথ্যপ্রমাণ ক্রস-ভেরিফাই করার প্রয়োজন ইডির হয়ত হবে এবং তার জন্য কালীঘাটের কাকুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হতে পারে কয়লা ও গরু চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে বসিয়ে। ফলে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকেও হয়ত যথাশীঘ্র সম্ভব দিল্লি নিয়ে যেতে হবে ইডিকে।”

