আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৭ আগস্ট: পরিবারের সদস্যরা কীভাবে রয়েছেন তা নিয়ে চিন্তিত ভারতে বসবাসকারী কাবুলের বাসিন্দারা। টিভির পর্দায় সর্বদা চোখ রেখে শিউড়ে উঠছেন তারা। আদৌ কি পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জীবিত রয়েছেন বা কোনও দিন কি আর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব তা নিয়ে আকুল পাথারে রামপুরহাটে বসবাসকারী জন্মসূত্রে আফগানের বাসিন্দারা।
দুই দশক ধরে বীরভূমে বসবাস করেন ১৫ জন আফগানি। তাদের পোশাকি নাম কাবুলিওয়ালা। তাদের স্ত্রী পুত্ররা ভারতে থাকলেও মা-বাবা, দাদা, দিদিরা থাকেন কাবুলে। মূলত সুদের ব্যবসা করেই তারা সংসার চালান। সেই টাকার একটি অংশ পাঠান কাবুলে। দিন সাতেক থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বন্ধ যোগাযোগ। সব সময় টিভির পর্দায় চোখ রেখে দিন কাটছে তাদের। প্লেনে হুড়োহুড়ি, আকাশ পথে প্লেন থেকে পড়ে মৃত্যু, তালিবানিরা যাকে পাচ্ছে ধরে ধরে মাথার চুল কেটে দিচ্ছে। এমন সব ছবি দেখে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন রহমান খান, গুল খানরা।
রহমান খান বলেন, “সাত দিন আগে দাদার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হয়েছে। তখন দাদা বলেছিলেন আমাদের এলাকা দখল করে নিয়েছে তালিবান। ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। ঘরে মধ্যে আতঙ্কে রয়েছি। এখন আর যোগাযোগ হচ্ছে না। কারণ সেখানে টাওয়ার নেই। খবরে দেখেছি প্লেন থেকে আকাশ থেকে মাটিতে পড়ছে, তারপর তালিবানিরা কীভাবে অত্যাচার করছে। এসব দেখে আমার মন ভারাক্রান্ত হচ্ছে। কখন শান্ত হবে আফগানস্তান তা নিয়ে চিন্তায় আছি। ২০ বছরের সরকারকে ওরা ভেঙে দিল। আগের সরকার ভালো ছিল। সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল। পরিকল্পিতভাবে সরকারকে ভেঙে দেওয়া হল। এর আগে তালিবান সরকার ছিল। কিন্তু সে সময় মানুষ শান্তি পায়নি। এরা আবার এসেছে, আবার কি হবে বলা খুব মুস্কিল। এখন আশু নামে যে সরকার ক্ষমতায় বসেছে তিনি শুধু আফগানস্তানের জন্য নয়, সব দেশের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে যাবে। সব দেশ মিলে এই আশুদের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে বিশ্বে বিপদ বাড়বে”।
গুলু খান বলেন, “কাবুল তালিবান দখল করেছে। সব ফোন বন্ধ। কয়েক দিন ধরে কথা হচ্ছে না দাদাদের সঙ্গে। খুন চিন্তায় আছি। মানুষ ছুটে ছুটে পালিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছে। সব দেশকে এটা দেখা উচিত। আগের সরকার খুব ভালো ছিল”।

