জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৬ সেপ্টম্বর: ধার নেওয়া টাকা চাওয়ায় খুন। দুর্গাপুরে কাবুলিওয়ালা খুনে ধৃত রাধুনিকে জেরা করে প্রাথমিক ভাবে জানতে পারল পুলিশ। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই জানিয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট পুলিশ।
প্রসঙ্গত, প্রায় দু’বছর ধরে দুর্গাপুর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহিষ্কাপুর প্লটে বেনাচিতি বাজার সংলগ্ন কাইজার লেনে এলটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন বছর ৫১-র কাবুলিওয়ালা হাসাম খান। সেখানে কাজু, পেস্তা ছাড়াও শীত বস্ত্রের ব্যবসা করতেন। গত শুক্রবার রাতে ওই ভাড়া বাড়ির তালা ভেঙ্গে কাবুলিওয়ালা হাসাম খানের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতের পরিবার খুনের অভিযোগ দায়ের করে দুর্গাপুর থানায়। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে কাবুলিওয়ালা হাসাম খানের ওই ভাড়া বাড়িতে রান্নাবান্নার কাজ করত বাঁকুড়ার বড়জোড়া থানা জাহির শেখ। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল সে। পরদিন শনিবার রাতে বড়জোড়ায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে জাহির শেখকে গ্রেফতার করে দুর্গাপুরে নিয়ে আসে পুলিশ। এবং তাকে দুর্গাপুর আদালতে তোলা হয়। আদালতের নির্দেশে ধৃতকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে খুনের ঘটনার কিনারা করে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুর্গাপুর প্রান্তিকা ফাঁড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন এসিপি পূর্ব তথাগত পান্ডে। তিনি জানান, “জাহির শেখ হাসামের বাড়িতে রান্নার পাশাপাশি হাসামের ব্যাবসার টাকা আদায়ের কাজও করত। ঘটনার দিন খুন করে তালাবন্ধ করে বাড়ি চলে যায় জাহির। তার কাছ থেকে তালার চাবি উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ে যাওয়া প্রায় ৯৪ হাজার টাকা এবং আর্থিক লেনদেনের একটি রেজিস্ট্রার খাতা সহ বেশ কয়েকটি সোনার গহনা উদ্ধার উদ্ধার হয়েছে। জাহির হাসামের কাছে টাকা ধার নিয়েছিল। এবং ওই টাকা বার বার চাওয়াতে খুন বলে প্রাথমিক অনুমান। ধৃত হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”

