কবীর সুমনের অশালীন মন্তব্য, আহত সাংবাদিকদের একাংশ, বেড়ে চলেছে প্রতিক্রিয়া

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২৮ জানুয়ারি: কর্মরত সাংবাদিককে প্রশ্নের উত্তরে অশালীন মন্তব্যের জেরে আহত সাংবাদিকদের একাংশ। বৃহস্পতিবার রাতের ওই ঘটনার পর শুক্রবার ফেসবুকে ক্রমেই বেড়ে চলেছে মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া।

প্রসার ভারতীর কনসাল্টিং এডিটর প্রসেনজিৎ বক্সি শুক্রবার লিখেছেন, “কবীর সুমন আপনার প্রতি একরাশ ঘৃণা…. যদি অশ্লীল ভাষা প্রয়োগে আপনার নিজের তৃপ্তি বোধ থাকে… আসুন সাংবাদিকদের তরফ থেকে আমি নামছি… কত দম দেখি একবার… একটা ছোট ছেলে …নরম মাটি… একরাশ থুতু আপনাকে”। ‘দি হিন্দু বিজনেস লাইন’-এর প্রাক্তন ডেপুটি এডিটর প্রতীম রঞ্জন বসু শেয়ার করেছেন প্রসেনজিতের পোস্ট।

নিউজ এইট্টিন-এর ডিজিটাল এডিটর কমলিকা সেনগুপ্ত তাঁর ফেসবুক ওয়ালে প্রশ্ন করেছেন, “হোয়াট ডু ইউ থিঙ্ক ইউ অল আর? ইউ হ্যাভ এভরি রাইট টু সে নো টু আ জার্নালিস্ট, বাট ইউ কান’ট মিসবিহেভ।“ শুক্রবার রাত আটটায় এই পোস্টে লাইক ও মন্তব্য যথাক্রমে ১১০ ও ২৫।

আনন্দবাজার পত্রিকার সিনিয়র সাব এডিটর সঞ্জয় পাত্র পৃথক পোষ্টে লিখেছেন, “কবীর সুমন খেদাও.. ক্ষমা চাইলে অন্য কথা।“ একটি নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের অধিকর্তা তথা একটি রাজনৈতিক দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক শতদ্রু রায় চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, “কবীর সুমন আপনি অন্যায় করেছেন সাংবাদিক কে অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করে। চ্যানেল পলিসি রিপোর্টাররা নির্ধারণ করেন না, সেটা জানেন। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিন্দা করছি।”

একটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক জয়িতা লিখেছেন, “গত রাতে যখন তাঁর অডিও শুনেছিলাম, তখন যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারিনি… তাঁর মতো (বুদ্ধিজীবী) মানুষ কীভাবে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এভাবে কুৎসিত ভাষায় (মা তুলে গালিগালাজ) কথা বলতে পারেন, তাতে অবাক হয়েছিলাম… আপনি তো ‘সুমন’ নামের ধাব্বা.. সুমন না বলে কু-মন বলাই ভাল, তাই না?“ শুক্রবার রাত আটটায় এই পোস্টে লাইক ও মন্তব্য যথাক্রমে ১১ ও ৬।

‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর সুবর্ণপ্রতীম গিরি ফেসবুকে তাঁর ওয়ালে বড় হরফে লিখেছেন, “এ তুমি কেমন তুমি…? ছিঃ। ধিক্কার।“ শুক্রবার রাত আটটায় লাইক ও মন্তব্য যথাক্রমে ১৪ ও ১১।

অ্যানথ্রোপোলোজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন বিজ্ঞানী ডঃ কল্যাণকুমার ভট্টাচার্য বড় হরফে লিখেছেন, “প্রেস ক্লাবে দেখলাম কাকগুলো বেঁচে আছে, বাপ মা মরার হব্বিস্যির ভাগ আর শ্রাদ্ধের পিন্ডি চটকানি খাওয়ার জন্য। একটা আবার শুয়োর, গরু দুটোই খায়, ফকির – কবীর তো।“

অপরদিকে, জনৈক সন্দীপন চক্রবর্তী লিখেছেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাননীয় শ্রী ‘কবীর সুমন’এর নাম ব্যবহার করে যে কদর্য অশ্লীল প্রচার চলছে, তাতে আমি তীব্র আপত্তি জানাচ্ছি। সঙ্গে প্রশাসনকে অনুরোধ করছি যে বা যারা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের প্রাক্তন সাংসদ/’গর্ব’কে নিয়ে এই মানহানীকারক প্রচার করার চেষ্টা করছেন তার বা তাদের প্রতি আইনি পদক্ষেপ নিতে…। আর মাননীয় শ্রী ‘কবীর সুমন’কে অভিনন্দন ‘মিনমিনে প্রতিক্রিয়া না দেওয়ার জন্য…”। এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ৩ ঘন্টায় ৪টি লাইক এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *