জল্পনার ইতি! তৃণমূলে যোগ দিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার, পেলেন তৃণমূলের সহ সভাপতি পদ

আমাদের ভারত, ৮ মার্চ: সব জল্পনা সত্যি করে মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাসফুল শিবিরের সদস্য হলেন বিজেপি থেকে বরখাস্ত জয়প্রকাশ মজুমদার। আর তৃণমূলে যোগ দিয়েই বড় প্রাপ্তি হয়েছে তার। তাকে দলের সহ সভাপতি করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি তিনি তৃণমূলের ঝান্ডা হাতে তুলে নেন।

বেশ কিছুদিন হয়েছে বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে জয়প্রকাশ মজুমদারের। প্রকাশ্যে দল বিরোধী মন্তব্য করেছেন তিনি। যার ফলে শোকজের মুখোমুখিও পড়তে হয়েছে জয়প্রকাশকে। দলের সিদ্ধান্তে অবশেষে তাকে ও রীতেশ তেওয়ারিকে বরখাস্ত করে বিজেপি। এরপরেও প্রকাশ্যেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা যায় তাকে। একাধিকবার গোপনে শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। যার জেরে কানাঘুষা শুরু হয়েছিল যে বিক্ষুব্ধ বিজেপির নেতারা একাট্টা হচ্ছেন।

জয়প্রকাশের দল বিরোধী মন্তব্য উস্কে দিয়েছিল তার বিজেপির সঙ্গে বরাবরের জন্য সম্পর্ক ছিন্ন করা শুধু সময়ের অপেক্ষা। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হল। মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে যোগ দিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। ২০১৪ তে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন জয়প্রকাশ। রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি করা হয় তাকে। ২০১৯-এ করিমপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়প্রকাশ মজুমদার প্রার্থী করে বিজেপি। তখন তৃণমূলের কাছে হেরে গিয়েছিলেন জয়প্রকাশ।

সুকান্ত মজুমদার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় রদবদল হয়। গত বছর ডিসেম্বরে সহ সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে তাকে মুখপাত্র করে বিজেপি। তারপর থেকেই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন জয়প্রকাশ এবং রিতেশ তেওয়ারি। বিজেপি তাকে বরখাস্ত করে। বরখাস্ত হওয়ার পর কেন্দ্র-রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেন তিনি। এমনকি দলের ত্রুটি বোঝাতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা টানেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কুশল স্ট্র্যাটেজিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেত্রীর বিরুদ্ধে বিজেপির খেলা অনেকেটা তো মেসির টিমের সঙ্গে তিনদিনের প্র্যাকটিস করা টিমের খেলার মত। এরপর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জয়প্রকাশ মজুমদার ও রীতেশ তেওয়ারিকে বরখাস্ত করে বিজেপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *