জয় শ্রীরামের পরিবর্তে শুভেন্দুর মুখে জয় মাকালী ধ্বনি, বাঙালির মন বুঝেই কি পরিবর্তন? চর্চা তুঙ্গে

শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ২০ সেপ্টেম্বর: জয় শ্রীরামের বদলে জয় মাকালী ধ্বনি দেওয়া শুরু করলেন নন্দীগ্রামে বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু কেন এই পরিবর্তন? বাঙালিকে কাছে টানতেই কি তাঁর এই ভাবনা? হিন্দি বলয়ের দল হিসেবে পরিচিত বিজেপিকে আদ্যপ্রান্ত বাংলার দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই কি তাঁর এই উদ্যোগ? নাকি এর পেছনে অন্য জল্পনা কাজ করছে।

আর মাত্র হাতে গোনা ১০ দিন বাকি ভবনীপুর সহ রাজ্যের তিন কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ। আবার মানুষ ভুঁইয়ার ছেড়ে যাওয়া আসনেও ভোট। তবে সেখানে প্রার্থী দিচ্ছে না বিজেপি বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু আজ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ভবানীপুরের ‘অবিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী’কে আবার পরাজিত করতে বিজেপি বিশেষভাবে নজর দিতে আগ্রহী বলে টুইট করে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে টুইটের শেষে বিজেপি নেতাদের প্রচলিত প্রথা ভেঙে জয়শ্রীরামের বদলে জয় মাকালী ধ্বনি দিয়েছেন।

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে সফলতার স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়িত হয়নি। কেন সেটা হয়নি তা নিয়ে অনেক কাটাছেঁড়াও হয়েছে। তাতে উঠে এসেছে বিজেপিকে এখনো বাংলার মানুষ বাংলার দল হিসেবে গ্রহণ করে উঠতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রেই বিজেপি হিন্দি বলয়ের দল হিসেবেই থেকে গেছে এই বাংলায়। ফলে সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতিও কাজ দেয়নি। ভগবান শ্রীরামকে বাঙালি ভগবানের জায়গায় বসালেও আজও বাঙালির সেন্টিমেন্টে অনেক বেশি জড়িয়ে মাকালী, জয় বাবা ভোলানাথ বা হরে কৃষ্ণ বোল বা ধ্বনির সঙ্গে। হিন্দি বলয়ের রাজ্যের মানুষের মুখে মুখে যেমন রাম রাম ধ্বনি ঘোরে বেশি, ঠিক তেমনি বাংলার মানুষ জয় মা কালী বলে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে।

আর শুভেন্দু অধিকারী তো এই বাংলার রাজনৈতিক ময়দান থেকে উঠে আসা নেতা। ফলে বাংলার মানুষের পছন্দ না পছন্দটা ধরা তাঁর পক্ষে খুব একটা কঠিন নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে শুভেন্দু অধিকারী সম্ভবত সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগাতে এবার শুরু করলেন। হিন্দি বলয়ের বিজেপি নয়, তিনি বিজেপিকে বাংলার রসে সিক্ত করে বাঙালির দল হিসেবে গড়ার কাজে মন দিয়েছেন। আর সেই কারণেই খুব সচেতন ভাবেই জয় শ্রীরাম ধ্বনির বদলে জয় মা কালীর ব্যবহার শুরু করলেন। এখন দেখার পদ্মশিবিরের অন্য বাঙালি নেতারাও এই পথ অনুসরণ করেন কিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *