আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৬ ফেব্রুয়ারি: ফের এক মঞ্চে সব রাজনৈতিক দল। যে যেন চাঁদের হাট। ভোটের মুখে শীতবস্ত্র দানের মধ্য দিয়ে রামপুরহাটে সব দলকে এক মঞ্চে এনে নজির গড়ল বীরভূম জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও বাগদেবী সরস্বতীর আরাধনায় ব্রতী হয় বীরভূম জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার দুপুরে মধ্যাহ্ন ভোজের পাশাপাশি শতাধিক দুঃস্থ পরিবারের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে। সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তথ্য সংস্কৃতি দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর মানস কুমার দাস, হাঁসন কেন্দ্রের বিধায়ক, বীরভূম জেলা কংগ্রেস সভাপতি মিল্টন রশিদ, রামপুরহাট পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান, জেলা তৃণমূল সহ সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মি, রামপুরহাট পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান, বিজেপির জেলা সহ সভাপতি শুভাশিস চৌধুরী, রামপুরহাট পুরসভার বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান তৃণমূলের সুকান্ত সরকার, মমতাময় মানবিক স্টলের কর্ণধার আব্দুর রেকিব, সমাজসেবী আনন্দ আগরওয়াল, বিজেপি মহিলা মোর্চার জেলা সম্পাদিকা রশ্মি দে। সভায় সমস্ত বক্তা সাংবাদিকদের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মানসবাবু বলেন, “সীমিত ক্ষমতার মধ্যে থেকেও সাংবাদিকরা যেভাবে মানবিক কাজ করে চলেছেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে”। মিল্টন রশিদ বলেন, “আমরা বিরোধী বিধায়ক হওয়ায় সরকারি কোনও অনুষ্ঠানে ডাক পাই না। কিন্তু প্রতি বছর সাংবাদিকরা নিয়ম করে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে একাসনে বসিয়ে সেই পক্ষপাত্বিতের নিরসন করে চলেছেন। রাজনীতিতে এমনটাই হওয়া উচিত। যেটা সাংবাদিকরা করে দেখালেন”।
শুভাশিসবাবু বলেন, “এই একটি দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকি। কারণ এই একটি জায়গায় সমস্ত রাজনৈতিক দল মন খুলে গল্প গুজব করতে পারি। নেই কোনও রাজনৈতিক ভেদাভেদ”।
সৈয়দ সিরাজ জিম্মি বলেন, “এখানে এসে খুব ভালো লাগে। সেই টানেই প্রতিবছর ছুটে আসি”। সংগঠনের সদস্য আরিফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা সারা বছর মানুষের কাছে পৌঁছে অনেক দুর্দশার খবর তুলে নিয়ে আসি। সেই থেকেই দুঃস্থ মানুষদের পাশে থাকার মনস্থির করি। সীমিত ক্ষমতার মধ্যে তাই আমরা কম্বল দান করলাম”।

