অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৬ জানুয়ারি:
“মাঝেমাঝেই সেই উন্মত্ত ভিড় তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করল। সোমা রাস্তায় পড়ে গেল। কিল, চড়, ঘুষি। অবাধ শ্লীলতাহানি। মেয়েটা দৌড়চ্ছে। পিছনে দৌড়চ্ছে ভিড়। বার বার রাস্তায় ফেলে পেটানো হলো সোমার ক্যামারম্যান রঞ্জিতকে। দু’জনেরই মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হলো।” এভাবেই ভগ্নিসম প্রাক্তন সহকর্মীর পাশে দাঁড়ালেন একটি বেসরকারি সংবাদ চ্যানেলের ম্যানেজিং এডিটর ধ্রুবজ্যোতি প্রামাণিক।
‘ধিক্কার….’ শিরোনাম দিয়ে একটি চ্যানেলের নামোল্লেখ করে ধ্রুবজ্যোতি লিখেছেন, “জি মুর্শিদাবাদ জেলা সাংবাদিক সোমা মাইতিকে রাস্তায় ফেলে পেটালো উন্মত্ত জনতা। প্রায় দু’ দশক যে মেয়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় সম্মানের সঙ্গে কাজ করছে, যে মেয়ের মতো তুখোড় সাংবাদিক আমি আমার কর্ম জীবনে কম দেখেছি, মুর্শিদাবাদ জেলা শুধু নয়, যে মেয়েকে গোটা রাজ্যের মানুষ প্রায়ই টিভিতে দেখতে পান, সেই মেয়েই আজ প্রাণ বাঁচাতে প্রায় দেড় কিলোমিটার দৌড়ল।
অথচ সোমারই পাঠানো ভিডিওতে দেখলাম, বিক্ষোভের নামে বেলডাঙ্গায় আজ যে তাণ্ডব চলছে, সেখানে থিকথিক করছে পুলিশ। কীসের বিক্ষোভ? ঝাড়খণ্ডে এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের খবরে কে রটালো তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়েছে? কার বা কাদের উসকানিতে এই তাণ্ডব? যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাতীয় সড়ক অবরোধ হয়? রেল অবরোধ হয়?
কী করছিল পুলিশ? দিনের আলোয় মুর্শিদাবাদের এক মেয়েকে, বোনকে তাড়া করছে দুষ্কৃতীরা, তাঁকে রাস্তায় ফেলে পেটাচ্ছে, শ্লীলতাহানি করছে, পুলিশ দেখতে পেল না? নাকি সোমা মাইতি নামের বাংলার এক মেয়েকে, এক উন্নত শির সাংবাদিককে বাঁচানোর কোনও দায় পুলিশের নেই?
বাংলার এক সাংবাদিক হিসেবে দাবি করছি,
১. সোমার উপর হামলাকারীদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করতে হবে।
২. প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করতে হবে।
৩. পুলিশকে জবাব দিতে হবে, কেন বাংলার এক মেয়েকে, বোনকে হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচানো গেল না।
৪. আমি দেখতে চাই, তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে, দুষ্কৃতীদের ধরতে প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করবে, কলকাতা প্রেস ক্লাব। না হলে, ক্লাবের বর্তমান সভাপতি, একদা আমার মাষ্টারমশাই, স্নেহাশিস শূরের কাছে গিয়ে, কলকাতা প্রেস ক্লাবের সদস্য পদ ছেড়ে দেব।
মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে আমার বোনটার চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এক সাংবাদিকের ফোনে ওর সঙ্গে কথা বললাম। হাউ হাউ করে কাঁদছে আমার বোন।
আমার রাগ হচ্ছে। রাগ হচ্ছে। লজ্জায় মাথা নত হয়ে যাচ্ছে। এই আমার জেলা! এই আমার রাজ্য! এটা কোনও সাংবাদিকের পেশাগত ঝক্কির ফল নয়, এটা ঠাণ্ডা মাথার টার্গেটেড অ্যাটাক।
ছি!!!!”
এই ক্ষোভের সঙ্গে ধ্রুবজ্যোতির দুটি ছবির একটি যুক্ত করলাম এই রিপোর্টে।

