উপাচার্যের সন্ধান কমিটি সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্স নিয়ে যৌথ বিবৃতি

আমাদের ভারত, ১৬ মে: বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়ার জন্য নতুন অর্ডিন্যান্স এনেছে। এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার যৌথ বিবৃতি দিল বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। তাতে বলা হরেছে, ইউজিসি’র নির্দেশ অমান্য করে উপাচার্য নিয়োগের মামলায় পরাজয়ের পর রাজ্য সরকার এই পথে হাঁটার চেষ্টা করছে।

বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী, উচ্চশিক্ষা দপ্তর, ইউজিসি এবং আচার্যের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও আশ্চর্যজনকভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব বাতিল করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত নীতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বাধীকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা ও শিক্ষা প্রশাসনের কাজে সরকারি বা বেসরকারি যে কোনোরকম বাইরের হস্তক্ষেপ একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপজ্জনক। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপের প্রশ্নে দু’একবার স্বাধীকারের কথা বললেও তা যে নিছকই নিরুপায় হয়ে অথবা ছদ্মবেশ, তা অন্তত এই অর্ডিন্যান্সের মধ্যে স্পষ্ট। যাদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, যাদের জন্য উপাচার্য নিয়োগ তাদের কথাই এই বিলে সবচেয়ে উপেক্ষিত। তাছাড়া এই বিল আসলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপর রাজ্য সরকারের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল।

অবাক করার মত ঘটনা হল রাজ্য সরকারের এবং উচ্চশিক্ষা সংসদের প্রতিনিধি তো আসলে সরকারেরই প্রতিনিধি এবং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী তার প্রধান। আলাদাভাবে এই তিনজনের প্রতিনিধি রাখার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠের কর্তৃত্ব ভিন্ন অন্য কোনো শিক্ষা স্বার্থ যে নেই তা বলাই বাহুল্য। কেন্দ্র সরকারের মতই বিপজ্জনক এই কেন্দ্রীকরণ ও নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা। আমরা অবিলম্বে এই অর্ডিন্যান্স প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি রাখার দাবি জানাচ্ছি।“

এছাড়াও এই বিবৃতিকে ব্যক্তিগত ভাবে সমর্থন করেছেন আরও অনেকগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *