আমাদের ভারত, জলপাইগুড়ি, ১৭ এপ্রিল: দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এখন রাজনৈতিক রঙ লাগানো হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাকরির প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। সোমবার এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন মৃত সুবোধ ভট্টাচার্যের এবং অপর্না ভট্টাচার্যের মেয়ে তানিয়া ভট্টাচার্য। অপর্না ভাট্টাচার্য জলপাইগুড়ি পুরসভার তৃণমূলের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
তাঁর সাফ কথা, যেখানে মিনিউসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন ছাড়া চাকরি হয় না। সেই জায়গা থেকে ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত চাকরির প্রলোভন দিচ্ছেন পুরসভায়। তাঁর কথায় সায় দেবার কোন প্রশ্ন ওঠে না। অন্যদিকে, চারদিক থেকে চাপ আসার কারণে নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন তানিয়া। সেই কারণে তিনি জেলা পুলিশ সুপার দফতরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অন্যদিকে ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সন্দীপ ঘোষ পলাতক। এদিন তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করলে তাঁর পরিবারের দাবি সন্দীপ কলকাতায়, বাড়ির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই।
চলতি মাসের ১ তারিখ জলপাইগুড়ি শহরের পান্ডাপাড়া রোডের বাসিন্দা আইনজীবী সুবোধ ভট্টাচার্য এবং জলপাইগুড়ি পুরসভার তৃণমূলের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান অপর্না ভট্টাচার্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এর পরেই একটি সুইসাইড নোট উদ্ধারের পরে ঘটনা নতুন মোর নেয়। নোটে আত্মহত্যার জন্য পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সৈকত ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলার সন্দীপ ঘোষ সহ মোট ৪ জনের নাম উঠে আসে। এই চার জনের নামে কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুবোধ ভট্টাচার্যের দিদি তথা বিজেপি বিধায়ক শিখা চ্যাটার্জি।
এর পরেই তানিয়া ভট্টাচার্যের ওপরে চাপ আসছে বলে অভিযোগ। এদিন তানিয়া বলেন, এই ঘটনাকে এখন রাজনৈতিক রঙ দেবার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন ভাবে ডিস্টার্ভ করার পাশাপাশি প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে প্রলোভন দেখিয়ে যাচ্ছেন মূল অভিযুক্ত সৈকত চট্টোপাধ্যায়। পুরসভায় চাকরি দেবেন এই লোভ দেখানো হচ্ছে। কিন্তু তার কথায় কোনও পাত্তা দেওয়ার বিষয় নেই। আইন আইনের মত চলবে। তবে পুলিশের উপর তাঁর ভরসা নেই সেটাও জানিয়েছেন।”
এদিকে এই বিষয়ে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত ৬-৭ বছরে তানিয়া ভট্টাচার্য’কে তিনি দেখেননি। তানিয়া হাকিমের কাছে গিয়ে গোপন জবানবন্দী দিয়েছেন। তার পরে বিজেপি নেতারা তাকে কোথায় নিয়ে গিয়ে কী করছেন জানা নেই। তানিয়া’কে চিনি না, তাহলে চাকরি কোথা থেকে দেওয়া হবে। তাছাড়া পুরসভায় ওই ভাবে চাকরি হয় না।”

