রেস্তোরাঁর মেনুকার্ডের মতো চাকরির রেটকার্ড, পরিবারতন্ত্রের খোঁচায় নাম না করে তৃণমূল তথা মমতাকে বিঁধলেন মোদী

আমাদের ভারত, ১৪ জুন:
বাংলায় অর্থের বিনিময় চাকরি কেলেঙ্কারি নিয়ে নাম না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে শুধু মমতাই নয় জমির বদলে চাকরি কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত প্রাক্তন রেলমন্ত্রীর লালু প্রসাদ যাদবকেও কটাক্ষ করেছেন মোদী।

মঙ্গলবার নয়া দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি রোজগার মেলার উদ্বোধন করেন মোদী। ৭০ হাজার নিয়োগপত্র বিতরণের পরে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলি কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা শিক্ষার দিকে মনোনিবেশ করেনি। তারা কেবলমাত্র দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। এরপরই তিনি এই রাজ্যে চাকরির রেটকার্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

পশ্চিমবঙ্গের নাম না করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে কাজ পেতে গেলে কাটমানি দিতে হয়। পৃথক পৃথক কাজের জন্য আলাদা আলাদা রেট অর্থাৎ কত টাকা দিতে হবে তাও নির্ধারণ করা আছে। তিনি আরো দাবি করেন, এই পরিবারতান্ত্রিক দলগুলির রেটকার্ড এর বিপরীতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের যুবদের চাকরি সেফগার্ড করার চেষ্টা করছে। তাদের জন্য চাকরি সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছে।

রোজগার মেলায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সংবাদ মাধ্যমে দেখেছি দেশের এক রাজ্যে নগদের বিনিময় চাকরি দেওয়ার কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছে। তদন্তে গুরুতর কেলেঙ্কারি ধরা পড়েছে। সরকারি চাকরির প্রত্যেক পদের জন্য আলাদা আলাদা রেট ঠিক করা আছে। যেমন রেস্তোরাঁতে মেনুকার্ডে এই রেট দেখা যায়। এই রেটকার্ডের মাধ্যমে দরিদ্রদের লুট করা হচ্ছে। যদি সাফাই কর্মীরা কাজ চান তাদের জন্য আলাদা রেট। গাড়ি চালকের কাজের আলাদা রেট। কেরানি, শিক্ষক প্রত্যেক পদের আলাদা আলাদা রেট নির্ধারণ করা হয়েছে।” নাম না করলেও প্রধানমন্ত্রী যে পশ্চিমবঙ্গের দুর্নীতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন তা স্পষ্ট ছিল।

শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে সরকারি গ্রুপ সি গ্রুপ ডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় দুর্নীতির খোঁজ পেয়েছে ইডি। বর্তমানে সেই মামলার তদন্ত চলছে।

বাংলার নিয়োগ দুর্নীতির পাশাপাশি লালু প্রসাদ যাদবের পরিবারের বিরুদ্ধে জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন মোদী। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে আরও একটি মামলা উঠে এসেছে। প্রাক্তন রেলমন্ত্রী রেলে চাকরি দেওয়ার বিনিময় দরিদ্র কৃষকদের জমি কেড়ে নিয়েছেন। জমির বদলে চাকরি দেওয়ার এই মামলাটির তদন্ত করছে সিবিআই। এরপরে মোদী বলেন, এই দুটি বিষয় থেকে পরিষ্কার একদিকে স্বজন পোষণকারী পরিবারতান্ত্রিক দলগুলি রয়েছে, তারা কর্মসংস্থানের নামে দেশের যুবদের লুটছে। তাদের কাছে কাটমানি, রেটকার্ডই সব। অন্যদিকে রয়েছে তাঁর সরকার, তাঁর কাজ চাকরি সেফগার্ড করা।তাঁর দাবি, যুব সমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে রক্ষা করার জন্য কাজ করছে তার সরকার।

সামনেই বাংলার পঞ্চায়েত নির্বাচন। সেখানে সরাসরি প্রচারে নামেননি প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সরাসরি প্রচারে না নামলেও নিজের বক্তব্যে এদিন তিনি যে যে বিষয় তুলে ধরলেন তাতে একদিকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারও যেমন হলো তেমনি বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ কারা সেটাও স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। টাকার বিনিময় চাকরি তথা পরিবারতন্ত্রের কথা তুলে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস উভয়কেই যেমন নিশানা দেগেছেন তেমনি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন বাম, কংগ্রেসের তোলা তৃণমূল বিজেপির সেটিং তত্ত্ব মোটেই ঠিক নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *