পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৯ ডিসেম্বর: গরিব মানুষের প্রকল্পের টাকা লুটেপুটে খাওয়ার অভিযোগ এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এলাকার তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ওই শিক্ষকের গোটা পরিবার টাকা তুলছেন একশো দিনের প্রকল্পের। মলয় মন্ডল নামে ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একযোগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন ডান-বাম সকল সংগঠন। বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দক্ষিণ দিনাজপুরে।
যদিও এমন ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন জলঘর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মলয় মন্ডল। তাঁর দাবি, গত অক্টোবর মাসে ঘটনা জানার পরেই তিনি তাঁর নাম ওই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পঞ্চায়েতে আবেদন করেছেন। উড়িয়ে দিয়েছেন তার পরিবারের লোকেদের টাকা তুলবার দাবিও।
যদিও সহ-সভাপতির এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ তৃণমূল পরিচালিত জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গোপাল মুর্মু। তিনি বলেন, নাম কাটার জন্য সহ-সভাপতি আবেদন করলেও তার পরিবারের সদস্যরা এখনো একশো দিনের কাজের টাকা তুলছেন।
বিরোধীদের অভিযোগ, গরিব মানুষের উপার্জনের জন্য একশো দিনের কাজের প্রকল্প চালু হলেও তার ফল খাচ্ছেন কিছু সুবিধাবাদী মানুষ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের নামে জবকার্ড তৈরিও করছেন অনেকেই। কাজ না করেও টাকা তোলা হয় এমন সব অ্যাকাউন্ট থেকে বলেও অভিযোগ। যে কাজে বারবার নাম উঠে আসতে দেখা গেছে শাসক দলের নেতাদেরই। এবারে এমনই এক ঘটনার যেন জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে পেশায় শিক্ষক তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মলয় মন্ডলকে। বছরের পর বছর ধরে সেই জব কার্ডের সুবিধা ভোগ করে আসছেন সহ-সভাপতি ও তার আস্ত পরিবার। ২০২০ সালে একশো দিনের কাজের সর্বশেষ তালিকাতেও সেই কাজের টাকা তুলবার চিত্র সামনে এসেছে ওই তৃণমূল নেতার বাবা নিতাই চন্দ্র মন্ডল, মা মুক্তি মন্ডল এবং ভাই মৃণাল মন্ডলের নামে। যা সামনে আসতেই রীতিমতো শোরগোল পড়েছে গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে। তবে কিভাবে সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বছরের পর বছর ওই শিক্ষক নেতার আস্ত পরিবার একশো দিনের কাজের টাকা তুলে আসছেন তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।
বিষয়টি নিয়ে আরএসপির যুব নেতা সরোজ কুন্ডু জানান, তৃণমূল দলটাই কারচুপি আর কাটমানির দল। যারা ক্ষমতার অপব্যাবহার করেছেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন সরোজবাবু।
বালুরঘাটের সংসদ সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা এই ভাবেই তুলে নিচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর প্রশাসন মূক ও বধিরের ভূমিকা পালন করছে। বিজেপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত প্রশাসন কোন কথা শুনবে না।

