পুরুলিয়ায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের প্রদর্শনী ক্রিকেট ম্যাচ জিতল ঝাড়খণ্ড একাদশ

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৯ ফেব্রুয়ারি: দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের প্রদর্শনী ক্রিকেট ম্যাচ জিতল ঝাড়খণ্ড একাদশ। পুরুলিয়ার কাঁটাডিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের আমন্ত্রণ মূলক ওই ম্যাচে বাংলা একাদশকে ১৬৭ রানে পরাজিত করল।

এদিন সকাল এগারটায় কাঁটাডি রেল স্টেশনের কাছে একটি মাঠে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ক্রিকেট ম্যাচ শুরু হয়। বাংলা একাদশ ও ঝাড়খণ্ড একাদশের খেলোয়াড়দের মধ্যে। কিশোর বয়স থেকে যুবকদের সামঞ্জস্য বেশ নজর কাড়ে। দুই দলেই চারজন করে পূর্ণ দৃষ্টিহীন খেলোয়াড় ছিলেন। বাকিরা আংশিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। ২০ ওভারের এই খেলায় প্রথমে ব্যাট করতে নেমেই ঝোড়ো ইনিংস শুরু করেন ঝাড়খণ্ড একাদশের খেলোয়াড়রা। দলের হয়ে শতরান(১১৬ রান) করেন রাজীব রঞ্জন। ম্যাচে করে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে তিনি সবার নজর কাড়েন। ওই দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন অনীশ কুমার। মূলত ওই দুই ব্যাটসম্যানের উপর ভর করে ঝাড়খণ্ড একাদশ কুড়ি ওভারের শেষে ৬ উইকেটে ২৩৯ রান তোলে।

বিশাল রান তাড়া করতে নেমে বাংলা একাদশ তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়ে। ঝাড়খণ্ড একাদশের বোলিংয়ের দাপটে ১৫ ওভারে মাত্র সব উইকেট খুইয়ে ৭২ রান করে। খেলা শেষে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। দৃষ্টিহীনদের ক্রিকেট ম্যাচ খানিকটা এক পেশে মনে হলেও স্থানীয় গ্রামবাসী ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে উপভোগ্য হয়ে উঠে।

মাঠজুড়ে ব্যাটে ও বলের লড়াইয়ের কুশীলব ছিলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা। পুরুলিয়ার একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল। কাঁটাডি রেলস্টেশনের কাছে বিবেকানন্দ গ্রাম। সেখানেই নরেন্দ্রদেব বিদ্যা নিকেতনের প্রশস্ত খেলার মাঠে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। কলকাতার সমাজসেবী সংস্থা ভয়েস অফ ওয়ার্ল্ডের উদ্যোগে ক্রিকেট ম্যাচটি হয়। আয়োজক সাগস্থার কর্মকর্তা গার্গী গুপ্ত বলেন, “আমরা এই এলাকার প্রতিবন্ধী মানুষের আবাসিক পুঁথিগত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তারই দৃষ্টান্তে এই ক্রিকেট খেলার আয়োজন করেছিলাম।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে কলকাতার বেহালা অঞ্চলের ভারত সেবাশ্রম সংঘের পক্ষে খোকন মহারাজ বলেন, “এমন একটা প্রান্তিক এলাকায় প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়ন কল্পে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে আমি অভিভূত। এই ধরণের খেলা সত্যি সমাজে প্রেরণার দৃষ্টান্ত।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ খগেন গোস্বামী ও সমাজকর্মী বিবেক কাটারুকা, শৈবাল গুহ এবং ইন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *