অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বার ঘটনায় গৃহ শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করলো ঝাড়গ্রাম পকসো আদালত, ২১ বছর কারাদন্ডের নির্দেশ

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ২০ ডিসেম্বর: ১৩ বছরের নাবালিকা ছাত্রীকে লাগাতার ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত এক গৃহ শিক্ষককে ২১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিল ঝাড়গ্রাম পকসো আদালত। মঙ্গলবার ওই আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক চিন্ময় চট্টোপাধ্যায় সাজা ঘোষণা করেন। পকসো আদালতের বিশেষ সরকারি আইনজীবী তপনকুমার চৌধুরী জানান, সাজাপ্রাপ্ত ৫৬ বছর বয়সী মদনমোহন দাসকে ২১ বছর কারাবাসের সাজার পাশাপাশি, মোট ছ’হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করেছেন বিচারক। অনাদায়ে আরও অতিরিক্ত তিন মাস দশ দিন কারাবাসের নির্দেশ হয়েছে।

সরকারি আইনজীবী বলেন, অভিযোগ দায়ের হওয়ার একমাসের মধ্যে পুলিশ তদন্ত করে চার্জশিট দাখিল করেছিল, এবং উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে পেশ করেছিল। সাক্ষীরা যাতে নির্ভয়ে সাক্ষ্যদান করতে পারেন সেটাও সুনিশ্চিত করা হয়েছিল। এসবের কারণেই এক বছরের মধ্যে নির্যাতিতা বিচার পেল।

সাজাপ্রাপ্ত মদনমোহন দাসের বাড়ি সাঁকরাইল থানা এলাকায়। গত বছর ২৪ ডিসেম্বর পুলিশের কাছে নাবালিকার মা অভিযোগ দায়ের করে জানান, তার ১৪ বছরের মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সে মদনমোহনের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যেত। ২০ ডিসেম্বর মদনমোহন নাবালিকার মাকে ফোন করে জানায় তার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। কেশিয়াড়ির নার্সিংহোমে নাবালিকাকে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন মদনমোহন। নাবালিকা তার মাকে জানায়, বাড়িতে একলা পেয়ে মদনমোহন নিয়মিত তাকে ধর্ষণ করত। ঘনিষ্ঠ ছবির ভিডিয়ো করে রাখত। কাউকে বললে গোপন ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করে দেওয়ার ভয় দেখাত। এরপরই ২৪ ডিসেম্বর পুলিশের কাছে নাবালিকার মা অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ দায়ের হতেই মদনমোহন ফেরার হয়ে যায়। পরে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি মানিকপাড়া এলাকা থেকে মদনমোহনকে গ্রেফতার করা হয়। নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দি দেয় নাবালিকা। আইনি পদ্ধতি মেনে নাবালিকার পরিবারের সম্মতিতে হাসপাতালে নাবালিকার গর্ভপাত করানো হয়। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পকসো আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। ধর্ষণ, ভীতি প্রদর্শন ও পকসো আইনের ৬ ধারায় চার্জগঠন করে মামলার বিচার শুরু হয়। ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে আদালত। সোমবার মদনমোহনকে দোষী সাব্যস্ত করার পর মঙ্গলবার বিচারক সাজা ঘোষণা করলেন।

মামলার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন এসআই সুদীপ মাহাতো। মদনমোহনকে গ্রেফতার করতে সহায়তা করেছিলেন এএসআই সজলকুমার সুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *