অমরজিৎদে, ঝাড়গ্রাম, ১০ জুলাই:
মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার নাম করে ১২ লক্ষ টাকা প্রতারনা করার অভিযোগে এক যুবতী সহ দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার কলকাতা থেকে ধৃত দু জনকে নিয়ে এসে ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্ত শুভাশিস পতি এবং নিতু রায় নামে দুজনকে বৃহস্পতিবার রাতে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ কলকাতা পুলিশের সহযোগিতায় কলকাতা থেকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই ব্যক্তি ও যুবতীর কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ, বেশ কয়েকটি ফোন এবং বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঝাড়গ্রাম শহরের বাসিন্দা অর্নব ঘোষ দাস গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ঝাড়গ্রাম সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার নাম করে ১২ লক্ষ টাকা প্রতারনা করা হয়েছে। সেই অভিযেগের ভিত্তিতে পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
অর্নব ঘোষ দাস বলেন, ছেলে সত্যকি রঞ্জন দাস ডাক্তারি পড়ার জন্য ২০২০ নিট পরীক্ষা দিয়েছিল। গত ৫ ডিসেম্বর একটি নম্বর থেকে ফোন আসে আমাদের কাছে। ফোনে জানায়, আমরা এস এস সফটেক সলিউশন থেকে বলছি। এটি একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ আধিকারিকদের সংগঠন। আমরা সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করার ব্যবস্থা করে দিই। এর জন্য ১২ লক্ষ টাকা দিতে হবে অনলাইনে। তারপর আমরা অনলাইন মারফত ওনাদের একাউন্টে ১২ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দিই। তারপর অর্নবাবু এবং তাঁর ছেলেকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে আসতে বলে। সেখানে তাঁর সারাদিন অপেক্ষা করার পরেও কারো দেখা পাননি। তারপর থেকে ওই ব্যক্তির ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়। তখনই তারা বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন।ঝাড়গ্রাম সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ দায়ের করেন অর্নববাবু।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পরিবারটির কাছে আরো ষাট লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল। এদের সাথে বড় কোনও চক্র রয়েছে কিনা তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।শুক্রবার ধৃত দুই জনকে আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃত শুভাশীষ পতিকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে ও নিতু রায়কে চার দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। জানাগেছে ধৃত যুবতীর বাড়ি কলকাতার বেহালায় এবং ওই ব্যক্তি ভুবনেশ্বরের বাসিন্দা।

