মমতার পা ভেঙ্গেছে কিন্তু মন ভাঙতে পারেনি, মিঠুনের পাল্টা হিসেবে রাজ্য প্রচারে এসে দাবি জয়া ভাদুড়ির

আমাদের ভারত, ৫ এপ্রিল:তৃণমূলের হয়ে বাংলায় প্রচার করলেন বাংলার “ধন্যি মেয়ে” তথা সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চন। বক্তব্যের প্রথমেই তিনি নিজেকে বাংলার মেয়ে হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তার কথায় আমি জয়া বচ্চন তবে আগে জয়া ভাদুড়ি ছিলাম। আমার বাবার নাম তরুণ কুমার ভাদুড়ি। আমরা প্রবাসী বাঙালি। অর্থাৎ প্রথমেই বহিরাগত ইস্যু খন্ডন করতে নিজেকে বাংলার মেয়ে হিসেবে মনে করিয়ে দেন তিনি।

রবিবারে কলকাতায় এসে পৌঁছান জয়া বচ্চন। সোমবারেই তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচার শুরু করেন তিনি। তবে প্রচার শুরুর আগে তৃণমূল ভবনে একদিকে দোলা সেন অন্যদিকে পূর্ণেন্দু বসুকে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ। সেখানে শুরুতেই নিজেকে প্রবাসী বাঙালি হিসেবে পরিচয় করানো জয়া। ভিন্ন রাজ্য থেকে বিজেপি নেতাদের নির্বাচনী প্রচারে আসাকে বহিরাগত বলে আক্রমণ করছে তৃণমূল। ফলে সেখানে দাঁড়িয়ে জয়ার প্রচারকেও পদ্ম শিবির পাল্টা অস্ত্র হিসেবে হাতে তুলে নিতে না পারে। ফলে সেই রাস্তাটাকে প্রথমে বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করলেন জয়া।

স্পষ্ট বাংলায় তিনি বলেন,” অভিনয় করতে আসিনি। যে কাজ দেওয়া হয়েছে তা পালন করতে এসেছি।” বলিউডের বাঙালি তারকা মিঠুন চক্রবর্তীকে দিয়ে বিজেপি ইতিমধ্যেই বাংলার ভোট প্রচার করাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে এর পাল্টা হিসেবেই জয়া বচ্চনকে তৃণমূল প্রচারে নিয়ে এলো।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, মিঠুন চক্রবর্তীর চিরকালই একটা পা বাংলায় ছিল। কিন্তু জয়ার তা ছিল না।

তবে সাংবাদিক বৈঠকে বেশিরভাগ সময়টাই বাংলায় কথা বলেছেন জয়া। রবি ঠাকুরের, “বাংলার মাটি বাংলার জল গানের দুটি লাইনও আওড়েছেন। ২০০৬ সালের জমি আন্দোলনের সময় থেকে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তৃণমূলের। সেই সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সংসদ জয়া। সেকথা বৈঠকের প্রথমেই মনে করিয়ে দেয় দোলা সেন। তার কথার সূত্র ধরেই জয়া বচ্চন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে, বাংলায় গণতন্ত্র রক্ষা করতে লড়াইয়ে একা লড়াই করছেন মমতা। ওর মাথা ফাটিয়ে পা ভেঙেও থামাতে পারেনি বিরোধীরা। ভাঙতে পারেনি মন। উনি বাংলাকে শ্রেষ্ঠ রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছেন। আমি জানি যে কাজটা উনি করতে চান তা সম্পূর্ণ করবেন।” মমতার বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “মমতাকে যারা বাজে কথা বলছেন তাদের জন্য একটাই কথা লজ্জা লজ্জা।”

এদিন সাংবাদিক বৈঠকের আগে তাকে স্বাগত জানান রাজ্যের মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু। এছাড়াও এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে সমাজবাদী পার্টির এরাজ্যে কয়েকজন নেতাও ছিলেন। এদিন সমাজবাদী পার্টির লাল টুপি পড়ে সাংবাদিক বৈঠকে বসেন জয়া। তিনি বলেন, অখিলেশ আমায় বলেছিলেন, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি তৃণমূলকে সমর্থন করছে। আমাকে প্রচারে আসতে হবে আমি খুব খুশি হয়েছি। অখিলেশ যাদবৎও মমতাজিকে ধন্যবাদ জানাই। আমার ধর্মকে আমি অপহরণ করতে দেব না। আমার গণতন্ত্রকে অপহরণ করতে দেব না। মমতা একজন মহিলা যিনি সমস্ত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একা লড়াই করছেন। মহিলাদের জন্য নিরাপদ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। সেটা তৈরি করেছেন মমতা। ”

আগামী কয়েকদিন দুটি করে বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার করবেন জয়া বলে তৃণমূল সূত্রের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *