পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৮ জানুয়ারি: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুরের রাজপুরাতে জনতা উন্নয়ন পার্টির (জেইউপি) দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করলেন দলের প্রধান হুমায়ুন কবির। এদিন সকালে সাহাচক এলাকা থেকে একটি মিছিল করেন তিনি। মিছিল শেষে রাজপুরাতে ফিতে কেটে দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন।

কার্যালয় উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন হুমায়ুন কবীর। সম্প্রতি অজিত পাওয়ারের মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, গোটা ঘটনায় তিনি অত্যন্ত দুঃখিত।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, রাজ্যের মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জনতা উন্নয়ন পার্টি। এর মধ্যে খড়্গপুর সদর ও খড়্গপুর গ্রামীণ আসনও রয়েছে। কোন কোন আসনে কীভাবে জোট হবে, তা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
জোট প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “যারা বিজেপিকে দূরে রাখতে চায় এবং দুর্নীতিতে নিমজ্জিত তৃণমূল সরকারকে সরাতে এগিয়ে আসবে, তাদের সঙ্গেই আমরা জোট করব।”

তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমরা যখন গণতান্ত্রিক উপায়ে তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের কাছে যাচ্ছি, তখন পিসি-ভাইপোর ঘুম উড়ে যাচ্ছে। আমাদের গদ্দার বলা হচ্ছে। অথচ একসময় মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীই হুমায়ুন কোবীরকে ‘স্ট্রং ম্যান’ সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। আজ পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বললেই আমাদের পোকামাকড়ের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।”
আনন্দপুরের মৃত্যু মিছিল নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পরেও মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে যাননি। “নাটক করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী অপেক্ষা করেন। দু’মাস পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে উল্টো-পাল্টা ব্যাখ্যা দেন। এটাই তাঁর শিষ্টাচারে পরিণত হয়েছে,” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন জেইউপি প্রধান। তিনি বলেন, “২৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার লিস্ট প্রকাশের কথা থাকলেও আমার আশঙ্কা, সেই তারিখেও তা সম্ভব হবে না। নির্দিষ্ট সময়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ না হলে ভোট হবে না এবং বাংলায় সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ৩৫৬ ধারা জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
সিঙ্গুর প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “কয়েক বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে সর্ষের বীজ ছড়িয়ে দিয়ে এসেছিলেন। আজ পর্যন্ত সেখানে কোনও ফসল হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য কিছু খরচ করে এলাকা সাজানো হয়েছিল। তার পাল্টা জবাব দিতেই আজ মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরে গিয়েছেন।”
মণিরুল ইসলাম প্রসঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন মেরুদণ্ড সোজা করে কাজ করতে পারে না। অসীম৫ সরকার কোরান নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক সরে যাচ্ছে বুঝেই মণিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখাতে পারছে না প্রশাসন। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা মুখ্যমন্ত্রীর নেই।”
সব মিলিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে একের পর এক আক্রমণ শানালেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর।

