আমাদের ভারত, হুগলী, ৩১ অক্টোবর: দীর্ঘ দু,বছরের করোনা মহামারি কাটিয়ে ফের ধর্মীয় আবেগের ছন্দে ফিরেছে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো। সোমবার সপ্তমী তিথিতে গঙ্গার পশ্চিম পারের ফরাসডাঙায় থিম ও সাবেকী প্রতিমার আরাধনায় প্রাণ ফিরেছে আলোর শহর চন্দননগরে। চলতি বছর চন্দননগরে ১৬টা জুবলি পুজো হচ্ছে।
এবার চন্দননগর দৈবকপাড়া হাটখোলা বারোয়ারী পঞ্চাশ বছর পালন করছে। এবার তাদের থিম ‘উজ্জ্বাপন’। মরা গাছের পুরনো ডালপালা দিয়ে পরিবেশ বান্ধব মণ্ডপ নির্মাণ করা হয়েছে। স্বর্ণাভ মুখের আদলে মা জগদ্ধাত্রী পূজিত হচ্ছেন রাজরাজেশ্বরী রূপে। করোনার পর থমকে থাকা জীবন যাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার যে মুক্ত বাতাস বৈছে সেই উন্মাদনার ছবি তুলে ধরা হয়েছে পুজা প্রাঙ্গনে।

পুজো কমিটির সম্পাদক বিজয় গুহ মল্লিক বলেন, পুরনো মরা গাছের ডালপালা দিয়ে মণ্ডপ তৈরী করা হয়েছে। আসলে একটা গাছ একটা সময় ও ইতিহাসের স্বাক্ষী। সেই মরা গাছ গুলি মন্ডপে ব্যবহার করে গাছেদের উজ্জীবীত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
লেখক, গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা যদি চন্দননগরকে নিয়ে কোনো ছবি তৈরী করতেন তাহলে কেমন হত। সেই ভাবনাকে ঢাল করেই পঞ্চাশ বছরে সাবিনারা বারোয়ারীর থিম যদি এমন হত। শতবর্ষের আলোকে সত্যজিত রায়কে ক্যামেরা হাতে মণ্ডপের সামনে দেখা যাচ্ছে। সেখানে চন্দননগরের বিভিন্ন স্বাপত্য নির্দশন ও ঐতিহাসিক ভবন ছাড়াও সোনার কেল্লা, অপু-দুর্গা ও ভূতের রাজার দেখা মিলবে। পুজো কমিটির সভাপতি প্রশান্ত সাহা বলেন, সত্যজিত রায় চন্দননগর নিয়ে কোনো ছবি করলে যেসব বিষয় গুলি প্রাধান্য পেতে পারত, সেই বিষয় গুলিকে আমরা ভাবনার মধ্যে তুলে ধরেছি।
বোড় পঞ্চাননতলা সর্বজনীননে দুর্গার মতোই জগদ্ধাত্রী মায়ের আরাধানা হয়। এই বৈশিষ্ট্য অন্যন্য পুজো থেকে এই পুজোকে একটা অন্য মাত্রা দিয়েছে। সম্পাদক দেবসদয় কুণ্ডু বলেন, চন্দননগরের বোড় পঞ্চাননতলা সর্বজনীনকে শুধুমাত্র সারা বছরে মা দুর্গা বা জগদ্ধাত্রী পূজোর মত দুটো বৃহৎ আনন্দ উৎসবের আয়োজনকারী বারোয়ারী হিসাবে গণ্য করলে তার পরিচিতি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বোড় পঞ্চাননতলা সর্বজনীন ” বোড় পঞ্চাননতলার অধিবাসীদের কাছে এক অনির্বচনীয় অনুভূতি ও একটি অদম্য আবেগের নাম। প্রায় দুই শতকের ঐতিহ্যবাহী অশ্বত্থ বৃক্ষের নীচে বাবা পঞ্চানন মন্দিরের অভিন্ন পরিচিতি প্রাপ্ত এই বোড় পঞ্চাননতলা সর্বজনীন ১৪১তম বর্ষের সর্বপ্রাচীন চন্দননগরের বারোয়ারী দুর্গোৎসবের দাবিদার, তার সঙ্গেই ৪৯ বর্ষের জগদ্ধাত্রীর মহোৎসব ও সমান্তরালভাবে নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করে চলেছে।

