স্থানাভাবে হোঁচট খাচ্ছে যাদবপুরের বিশ্বখ্যাত গবেষণাসংস্থা

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, কলকাতা, ২০ মার্চ:
স্থানাভাবে হোঁচট খাচ্ছে যাদবপুরের ইন্ডিয়ান ইন্সটিট্যুট ফর দি কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স (আইএসিএস)। বারুইপুরে সেকেন্ড ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত শেষ না করতে পারলে এর পাঠ্যক্রম ও গবেষণামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক গবেষণায় সহায়তা করাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। ১৮৭৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ডা. মহেন্দ্রলাল সরকার। পদার্থবিজ্ঞানে ভারতের প্রথম নোবেল বিজয়ী চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন এই প্রতিষ্ঠানেই তাঁর নোবেল বিজয়ী গবেষণাটি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু অর্থাভাব এবং পরিকাঠামোর অভাবে এর প্রসার ঘটানো যাচ্ছে না। আগে এটি ছিল কেবল গবেষণাগার। দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে এর নামডাক। ২০১৮-তে এটি ডিমড ইউনিভার্সিটির স্বীকৃতি পায়। কিন্তু প্রতিযোগিতার দৌড়ে দেশের সমগোত্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিরিখে কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে যাদবপুরের এই ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, নেচার সিটেশন ইনডেক্স অনুসারে দেশে রাসায়নিক বিজ্ঞানে তার ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে আইএসিএস-কে এক নম্বর প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্থান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জীববিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, এবং বস্তুগত বিজ্ঞানের মতো অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে যা অত্যাধুনিক পরীক্ষামূলক সুবিধার প্রয়োজন, এটি অন্যান্য অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এটি তার শিক্ষাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য একই ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।

সূত্রের খবর, বিভিন্ন আইআইটি-তে যেখানে গবষকের সংখ্যা পাঁচশর ওপর, বিভিন্ন ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা এবং অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান আইআইএসইআর-এ যেখানে সংখ্যাটা প্রায় ৩০০, সেখানে কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স-এ সংখ্যাটা মাত্র ৭১। অথচ, প্রতিষ্ঠার সময় এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগারের পরিকাঠামো রীতিমত বিশ্বমানের ছিল।

সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা অধ্যাপক ডঃ তাপস চক্রবর্তী। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, “যাদবপুরের চত্বরে ৯ একর জায়গায় নতুন ভবন তৈরি তো দূরের কথা, পুরনো ভবন ভেঙ্গে নতুন নির্মাণকাজের অনুমতি পুরসভা থেকে পাওয়া যাবে না। একটি পাঁচ তলা ভবন তৈরি হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে, ‘কারিগরি গবেষণা কেন্দ্র’। চূড়ান্ত পুর অনুমোদনের পর সেটি শীঘ্রই ব্যবহার শুরু হবে।”

ডিমড ইউনিভার্সিটির স্বীকৃতি পাওয়ার পর ফিজিক্যাল সায়েন্স, কেমিক্যাল সায়েন্স, ম্যাথামেটিক্স অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স, ইন্টারডিপার্টমেন্টাল সায়েন্স এবং মেটেরিয়াল সায়েন্স— এই ছ’টি বিষয়ে পঠনপাঠন শুরু হয়েছে যাদবপুরের এই প্রতিষ্ঠানে। প্রথমে ছিল মোট ৩০টি আসন। এখন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে ১২০টি আসন। কিন্তু স্থানাভাবে ফাঁপড়ে পড়েছেন কর্তৃপক্ষ।

সমাধানের পথ কোথায়? অধিকর্তা বলেন, “বারুইপুরে আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস তৈরি হচ্ছে। ২০১৮-র ১৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হর্ষবর্ধন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (স্মার্ট) ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের তৎকালীন সচিব আশুতোষ শর্মা, আইএসিএস-এর পরিচালনমন্ডলীর চেয়ারম্যান এমএম শর্মা প্রমুখ। প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন অধিকর্তা অধ্যাপক শান্তনু ভট্টাচার্যের অবদানও ছিল। যত দ্রুত সেটির কাজ শেষ করা যাবে, তত সুবিধা হবে। তবে ওই প্রকল্পের রূপায়ণ সময়সাপেক্ষ। আশা ছিল ২০২১-’২২ অর্থবর্ষে ৭০ কোটি টাকা মঞ্জুর হবে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রেখেছি। ওঁরা কিছু বিশদ তথ্য চেয়েছেন। সেটা মঞ্জুর হলে বারুইপুরের কাজে গতি আসবে।“
***

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *